জীবনদের গোল করা শেখাচ্ছেন ডে

ফুটবলারদের নিয়ে জেমি ডের অনুশীলনবাংলাদেশ ফুটবল দলে গোল করার লোক নেই। অনেক দিন ধরেই যোগ্য স্ট্রাইকারের সংকট। নাবীব নেওয়াজ জীবন নিয়মিত স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেও সেভাবে গোল পাচ্ছেন না।

জীবন একাই তো শুধু নন, অন্যরাও সেভাবে গোল করতে পারেন কই? প্রতিটি ম্যাচের আগে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন ইংলিশ কোচ জেমি ডে। আসন্ন বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবলে চ্যাম্পিয়নশিপেও স্ট্রাইকাররা গোল পাবেন তো? নাকি গোলখরায় ভুগতে হবে এখানেও?

জেমি ডের বাংলাদেশ দল সাধারণত খেলে ৪-১-৪-১ ছকে। নিজদের রক্ষণভাগ অটুট রেখে প্রতিআক্রমণে উঠে গোল করার কৌশলে এগিয়ে যেতে বিশ্বাসী ডে। তাই নিজেদের রক্ষণভাগের চেয়ে আক্রমণভাগ নিয়েই চিন্তা করছেন বেশি, ‘রক্ষণাত্মক কৌশলে আমরা এখন খুব ভাল অবস্থানে আছি। তবে আমাদের বড় ভাবনা গোল করা নিয়ে। তাই আমাদের গোল করার ক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে সামনের ৪-৫ দিন অনেক বেশি কাজ করতে হবে। যদিও এই সমস্যার  দ্রুত সমাধান আনা সম্ভব নয়।’

জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদের উপলব্ধি, ‘একদিনেই স্ট্রাইকার খুঁজে পাওয়া যাবে না। ঘরোয়া ফুটবলে স্ট্রাইকার হিসেবে স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়মিত খেলাতে হবে। কিন্তু আমাদের এখানে তো বিদেশিরাই এই পজিশনে খেলে থাকে। এ ছাড়া সেই মানের খেলোয়াড়েরও অভাব আছে।’

চলমান বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের রেকর্ড দেখলে বাংলাদেশের গোলখরার বিষয়টি উদোম হয়ে বেরিয়ে আসবে। পাঁচটি ম্যাচে বাংলাদেশ মধ্যে গোল খেয়েছে আটটি। আর দিয়েছে দুটি! দুটি গোলের একটি করেছেন সাদ উদ্দিন ও অন্যটি বিপলু আহমেদ। যেখানে ‘নাম্বার নাইন’ জীবন গোল করা দূরে থাক, সরাসরি গোলেই শট নিতে পেরেছেন খুব কম।

এমন পরিসংখ্যান খুব হতাশার। তবে ডে আশাবাদী মানুষ। স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সমর্থকদের, ‘আমাদের অনেক বেশি ইতিবাচক এবং আত্ববিশ্বাসী হয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ খেলতে হবে। কাজটা কঠিন হবে। তাই সবাইকেই ভাল পর্যায়ে থেকে খেলা শুরু করতে হবে। আজ অনুশীলনে আমরা আক্রমণ এবং ফরোয়ার্ড জোনে খেলার কৌশল নিয়ে কিছু কাজ করেছি। পাশাপাশি কাউন্টারেও সুযোগ তৈরির অনুশীলন করেছি। ফাইনালে যেতে হলে আমাদের গোল করতে হবে এবং ম্যাচ জিততে হবে।’

কমলাপুর স্টেডিয়ামে অনুশীলনের দ্বিতীয় দিনে নাবীব নেওয়াজ জীবন ও অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে ছাড়া কোচ পেয়েছেন সবাইকে। জ্বরের কারণে জীবন অনুশীলনে যোগ দিতে পারেননি। জামাল যোগ দেবেন আগামীকাল। অনুশীলনে খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে অবশ্য সন্তুষ্ট ডে, ‘ফিটনেস নিয়ে ভাবনার কিছু নেই। সবাই ফেডারেশন কাপ খেলেছে। আমাদের মূল ভাবনা ফুটবলারদের ক্লান্তি। তবে আজ তারা খুব ভাল অনুশীলন করেছে। সবাই কম বেশি কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পেয়েছে।আশা করছি ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই তাদের প্রস্তুত করে তুলতে পারবো।’

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে চান ডে, ‘দেখুন ফুটবলাদের ওপর প্রত্যাশার চাপ বেশি থাকে। প্রত্যাশা পূরণ মোটেও সহজ কাজ নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য গ্রুপপর্ব পেরোনো। এরপর সেমিতে ভাল খেললে তখন ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। আমি মনে করি এই টুর্নামেন্টটা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ আমার চেয়ে বেশি করে জিততে চাইছে। আমাদের সেরা চেষ্টাটাই করতে হবে।’