তাকে সুখে রাখার চেষ্টা করে গেছেন পেপ গার্দিওলা, পিটার ভিলানোভা, জেরার্ডো মার্টিনো, লুইস এনরিকে, আর্নেস্তো ভালভার্দে। কিকে সেতিয়েন এসেই ‘বিপ্লব’ ঘটাতে মেসির চাওয়ার উল্টোপথে হাঁটবেন, এটি ভাবা যায় না, যেতোও না। নতুন কোচ কাল বললেন, মেসিকে বার্সেলোনায় সুখী দেখতে চাওয়াটাই তার অগ্রাধিকার তালিকার ওপরে।
ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমারকে আবারও বার্সেলোনায় পেলেই যে মেসির পুরোপুরি সুখী চেহারাটা দেখা যাবে, সেটি সেতিয়েন জানেন। তাই মুন্দো দেপোর্তিভোর সাংবাদিক যখন বার্সেলোনার নতুন কোচের কাছে জানতে চাইলেন, নেইমার ফিরতে চাইলে তিনি তাকে স্বাগত জানাবেন কি না, তিনি বলে দিলেন, ‘ হ্যাঁ, এটা তো দারুণ ব্যাপার হবে।’
ঘটনা হলো, জানুয়ারির দলবদলে বার্সা যে চার মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে যাওয়া লুইস সুয়ারেজের বিকল্প হিসেবে কোনো ফরোয়ার্ডকে ‘সাইন’ করালো না, সে নাকি আবারও নেইমারের ফিরে আসার সম্ভাবনার কারণে।২০১৭ সালে মেসির ছায়া সরিয়ে নিজের মতো করে জ্বলে উঠবেন বলে নেইমার বার্সেলোনা ছেড়ে চলে যান প্যারিস সেন্ত জার্মেইতে। সেখানে গিয়ে সুখী হতে পারেননি নেইমার। বার্সেলোনায় ফিরতে মন উচাটন হয়ে ওঠে। এটি জানতে পেরেই মেসি ও সুয়ারেজ এমএসএন ত্রয়ীর ‘এন’কে ফেরাতে উদ্যোগ নেন গত মৌসুমে। বিশেষ করে মেসি। কিন্তু পিএসজি ব্যাপারটিকে জটিল করে তুলে নেইমারকে আর ফিরতে দেয়নি। আবার এমনও জল্পনা আছে যে, বার্সেলোনার কর্তা-ব্যক্তিরাই নেইমারকে আনার জন্য ‘ লোক দেখানো’ চেষ্টা করেছেন। তখনই মনে হয়েছিল নেইমারের জন্য বার্সেলোনার দুয়ার হয়তো চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।
না, মোটেই তা নয়। আবারও এমন সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে যে নেইমার আগামী গ্রীষ্মকালীন দলবদলেই ফিরছেন। এবং মেসিই নেইমারকে ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। আর তার উদ্যোগকে স্বাগতই জানাচ্ছেন সেতিয়েন, ‘ এটা তো খুব ভালো। আমি বড় ফুটবলারদের দলে পেতে এবং দেখতে পছন্দ করি। আমি শুধু কল্পনা করতে পারি প্রতিদিন আমি নেইমারকে দেখছি!’
আগামী বছর মেসির সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাবে বার্সেলোনার। চুক্তি নবায়ন করবেন, এমনটা কিন্তু বলছেন না মেসি। তবে বার্সেলোনা আশা করে মেসি বার্সেলোনাতেই ক্যারিয়ার শেষ করবেন। তবে ঠারেঠোরে মেসি এটা বুঝিয়ে দিয়েছেন বার্সেলোনার আবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের সম্ভাবনা না দেখলে সরে যাবেন। আর মেসি বার্সেলোনার আবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের সম্ভাবনা দেখেন নেইমার ফিরে এলেই।
কাতালান ক্লাবটির এখন যা অবস্থা, তাতে ৩২ বছর বয়সী মেসিকে ঘিরেই নিভু নিভু জ্বলছে তাদের আসন্ন অর্জনের যত সম্ভাবনা। দায়িত্ব নিয়ে কোনক্রমে দুটি জয়ের পর সেতিয়েন একটু বড় পরীক্ষাতেই হেরে বসেছেন। ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে গিয়ে হেরেছেন ২-০ গোলে। বুঝে গেছেন, আর্জেন্টাইন মহাতারকা ম্যাচে ভালো খেললেই সেটি জিততে পারে বার্সেলোনা, নতুবা নয়। মেসি আছে তো বার্সা আছে, মেসি নেই তো বার্সাও নেই! আগামীকাল বার্সার ঘরের মা্ঠেই আরেকটা পরীক্ষা নেবে লেভান্তে। এমনিতেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের কাছে গত সপ্তাহে শীর্ষস্থান খোয়াতে হয়েছে। আরেকটা বাজে ফল বার্সেলোনার জন্য হবে বড় ধাক্কা। চার মৌসুম ধরে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের ধারে-কাছে যেতে পারে না তারা। সাফল্য বলতে তো স্প্যানিশ লিগ! এটিও এবার হাতছাড়া হলে বার্সেলোনার সেই সাবেক হাড় জিরজিরে দিনগুলো হয়তো এসে পড়বে।
সুতরাং মেসিকে সুখে রাখতে চাওয়া সেতিয়েনের জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এবং মেসি যাতে আগামী মৌসুমে বার্সা ছেড়ে না যান সেটি তাকে দেখতে হচ্ছে, ‘ আমি আশা করি আমরা তাকে ততটাই সুখী দেখতে পারবো, যতটা হলে সে এখানে থেকে যেতে চাইবে।’
সম্প্রতি দৈনিক স্পোর্তকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেতিয়েন মেসি সম্পর্কে বলেছেন, ‘সে ভবিষ্যতেও এখানে থাকবে। আমার কোনও সংশয় নেই। সে আশ্বস্ত যে আমরা জিততে পারবো।’