৭ ম্যাচ হাতে রেখে ২০১৯-২০ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে লিভারপুল। বুধবার রাতে হাতে তুলেছে ট্রফি। আয়োজন সব প্রস্তুতই ছিল, সেটা আরও মধুর হয়েছে চেলসির বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে। ৪৩ মিনিটের মধ্যে তিন গোল দিয়ে জয় প্রায় নিশ্চিতই করে নেয় স্বাগতিকরা। স্কোরশিটে নাম তোলেন নবি কেইটা, ট্রেন্ট অ্যালেক্সান্ডার-আর্নল্ড ও জর্জিনিয়ো উইনাল্ডাম।
বিরতিতে যাওয়ার আগে অলিভিয়ের জিরুর লক্ষ্যভেদে চেলসি ব্যবধান কমালেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রবের্তো ফিরমিনো জাল খুঁজে পেলে সফরকারীদের আশা শেষ হয়ে যায়। যদিও হাল ছেড়ে দেয়নি ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের দল। ৬১ ও ৭১ মিনিটে ট্যামি আব্রাহাম ও ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচের গোলে খেলায় ফেরার ইঙ্গিত দেয় ব্লুরা। কিন্তু ৮৪ মিনিটে অ্যালেক্স অক্সলেড-চেম্বারলিনের লক্ষ্যভেদে ৫-৩ গোলের বড় জয়ে শিরোপা উদযাপনের উপলক্ষটা আরও রঙিন করে লিভারপুল।
লাল রঙে ছেয়ে যায় অ্যানফিল্ড। আতশবাজির ঝরনাধারায় ৩০ বছর পর বরণ করা হয় ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ লিগের ট্রফি। যেটি আবার প্রিমিয়ার লিগের প্র্রথম শিরোপা। অধিনায়ক হেন্ডারসনের ট্রফি উঁচিয়ে ধরা ও লিভারপুল খেলোয়াড়দের আনন্দ- সবই হয়েছে, তবু অপূর্ণতাই থেকে গেছে। করোনাভাইরাসের কারণে ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারেননি যে সমর্থকরা!
যার চেষ্টায় আবারও উৎসবে রঙিন হয়েছে লিভারপুল, সেই ক্লপ কিন্তু সমর্থকদের সঙ্গে আবারও শিরোপা উদযাপন করতে চান। জার্মান কোচ প্রস্তুত থাকতে বলছেন সব ভক্তকে, ‘আমরা যেখানে সবকিছু তাদের (সমর্থকদের) জন্য করেছি, সেটা যদি তারা দেখতেই না পারে, তাহলে কীসের আনন্দ। আমরা সবাই একসঙ্গে উদযাপন করবো। আপনারা উৎসবের প্রস্তুতি নিন, এই বাজে করোনাভাইরাস চলে গেলেই উৎসব হবে।’
২০১৫ সালে লিভারপুলের দায়িত্ব নিয়ে ক্লপ জিতেছেন চারটি বড় শিরোপা। যার মধ্যে রয়েছে গত বছরের চ্যাম্পিয়নস লিগ ও এবারের প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি। প্রাপ্তির খাতায় এত অর্জন দেখে ভীষণ গর্ব হয় তার, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন- এটাই সত্যি। আমরা চারটি শিরোপা জিতেছি, বড় শিরোপা। এর চেয়ে বেশি গর্ব করার আর কী আছে। সাধারণত আমি কোনও কিছুর সঙ্গে ছবি তুলি না, তবে এই চার ট্রফির সঙ্গে আমার ছবি আছে। এটা সবসময় ঘটে না।’