অপ্রতিরোধ্য বায়ার্ন চ্যাম্পিয়নস লিগের ১১তম ফাইনালে

বায়ার্ন মিউনিখপ্রথমে জুভেন্টাস, এরপর ম্যানচেস্টার সিটি- ‍দুই হট ফেবারিটকে বিদায় করে দেওয়া অলিম্পিক লিওঁ ছিল ফাইনালের স্বপ্নে বিভোর। বুঝতে পারছিল বায়ার্ন মিউনিখ বাধা পেরোতে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে, এরপরও আগের দুই ম্যাচের ফল আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছিল তাদের ভীষণভাবে। তবে এবারের মৌসুমের বায়ার্ন আলাদা। তাদের সামনে সবকিছুই খড়কুটোর মতো উড়ে যাচ্ছে। বিস্ময় জাগানো লিওঁ-ও পাত্তা পেলো না।

বুধবার রাতের সেমিফাইনাল সের্গে জিনাব্রির জোড়ায় ৩-০ গোলে জিতে ১১তম বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। সাত বছর পর আবারও ইউরোপসেরা মঞ্চে বায়ার্ন। ২০১২-১৩ মৌসুমে সবশেষ উঠেছিল ফাইনালে। সেবার বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে শিরোপাও জিতেছিল ব্যাভারিয়ানরা।

এবার ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে তাদের বাধা প্যারিস সেন্ত জার্মেই। আগের রাতে আরবি লাইপজিগকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার প্রতিযোগিতাটির ফাইনালে উঠেছে প্যারিসের ক্লাবটি। আগামী রবিবার শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে নামবে বায়ার্ন-পিএসজি।

কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে ম্যান সিটিকে হারিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল লিওঁ। ওই ম্যাচে পেপ গার্দিওলার ট্যাকটিকস নিয়ে কঠোর সমালোচনা হয়েছে। তবে ফরাসি ক্লাবটির সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। কেননা লিসবনের এস্তাদিও দা লুজে বায়ার্নকেও শুরু থেকে চেপে ধরেছিল তারা। চতুর্থ মিনিটে এগিয়ে যাওয়া সুযোগও তৈরি হয়, কিন্তু অধিনায়ক মেমফিস দেপেই পাশের নেটে মেরে হতাশ করেন। এর চেয়েও বেশি হতাশ করেছেন কার্ল তোকো একাম্বি। বায়ার্ন গোলকিপার মানুয়েল নয়ারকে কাটিয়েও বল গোলমুখে রাখতে পারেননি!

তবে বায়ার্ন ভুল করেনি। ম্যাচের প্রথম সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে তারা। ১৮তম মিনিটে জার্মান চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে নেন জিনাব্রি। ডানপ্রান্ত থেকে বল নিয়ে এগিয়ে এসে ডি বক্সের দাগের ঠিক সামনে থেকে বাঁ পায়ের শটে করেন দেখার মতো এক গোল। ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গারই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ৩৩ মিনিটে। ইভান পেরিসিচের ক্রস রবার্ত লেভানদোভস্কির পায়ে ঠিকমতো না লাগলে লিওঁ গোলকিপার প্রতিহত করেন, কিন্তু বল হাতে জমাতে না পারায় সামনে থাকা জিনাব্রি পায়ের আলতো ছোঁয়ায় জড়িয়ে দেন জালে।

প্রথমার্ধেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়া লিওঁর জালে শেষ বাঁশি বাজার মিনিট দুয়েক আগে আরেকবার বল জড়ান লেভানদোভস্কি। এ নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের টানা নবম ম্যাচে গোল পেলেন পোলিশ স্ট্রাইকার। একই সঙ্গে এবারের প্রতিযোগিতায় নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে গেছেন ১৫-তে।