দর্শক স্রোতে দেশে ফিরলো আন্তর্জাতিক ফুটবল

দলকে সমর্থন দিতে পতাকা হাতে জার্সি গায়ে চলে এসেছেন তারাদুপুর গড়াতেই ধীরে ধীরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভিড় বাড়তে থাকে। কেউ এসেছেন হাতে লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে, কেউবা জার্সি গায়ে। করোনাভাইরাসের প্রভাবও তাদের থামাতে পারেনি। আর এই সবকিছুই হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল দলকে সমর্থন দিতে। সেই ২৩ জানুয়ারি সবশেষ আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচের স্বাদ পেয়েছিল জামাল ভূঁইয়ারা। প্রায় ১০ মাস পর মুজিববর্ষে নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আবারও তারা মাঠে ফিরলো। আর তাই প্রিয় দলকে সমর্থন দিতে দর্শক-সমর্থকদের স্রোত বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে।
আজ (শুক্রবার) বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া ম্যাচের গ্যালারিতে আসনসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজারের মতো হলেও করোনার কারণে এক-তৃতীয়াংশ টিকিট ছাড়া হয়েছে। সেই সংখ্যা ৭ হাজারের মতো। ম্যাচ শুরুর অনেক আগেই প্রতিটি বুথে টিকিটি বিক্রি শেষ! তবে টিকিট কালো বাজারেও বেশ বিক্রি হয়েছে। তাদের হাতে টিকিটের মূল্য ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা করে শোনা গেছে।
টিকিটের মূল্য যাইহোক, ম্যাচ তো দেখতে হবে। দক্ষিণ এশিয়াতে বাংলাদেশই প্রথম, যারা আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন ফেরালো দেশে। সে কারণেই হয়তো সমর্থকদের উদ্দীপনা অন্য সববারের তুলনায় একটু বেশি।
এইচএসসি পড়ুয়া মেহেদী হাসান অভি দলবেঁধে খেলা দেখতে এসেছেন। অনেকদিন পর দেশের মাঠে খেলা, আনন্দ তার একটু বেশিই, ‘আমি নিয়মিত দেশের ফুটবল ফলো করি। আমরা ৯ মাস ধরে অপেক্ষা করছি একটি ম্যাচের জন্য। কবে ফিরবে দেশের ফুটবল মাঠে। আমরা যারা তরুণ আছি, ৮০ থেকে ৯০ জনের গ্রুপ খেলা দেখতে এসেছি। অনেকদিন ধরে টাকা জমিয়েছি সবাই মিলে। ইউরোপের আদলে ফুটবলের ওপর সমর্থকদের নিয়ে গ্রুপ করেছি। চিন্তা করলাম জাতীয় দলকে সাপোর্ট করা উচিত। আমরা যদি গ্যালারিতে উত্তাপ ছড়াতে পারি তাহলে অন্যরা উৎসাহিত হবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এসেছেন মশিউর রহমান। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে প্রথম বর্ষে পড়ুয়া এই ফুটবল সমর্থক করোনাকে শঙ্কা পেছনে ফেলে খেলা দেখতে এসেছেন। তার বক্তব্য, ‘এর আগেও খেলা দেখতে এসেছি। এবার অন্যরকম অনূভুতি হচ্ছে। করোনা ফুটবলের কাছে হার মানবে। স্বাস্ব্যসুরক্ষা মেনে সবাই এসেছি যেন গ্যালারিতে বসে প্রিয় দলকে সমর্থন করা যায়। দল জেতে। করোনাকে ভয় পেলে তো চলবে না। এটা মেনে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।’
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সামনে দর্শকের ভিড়গাইবান্ধা থেকে এসেছেন রোকনুজ্জামান। এতদূর থেকে খেলা দেখতে এসে রোমাঞ্চিত তিনি, ‘ঝিমিয়ে পড়া ফুটবলে জাগরণে এসেছি। ক্রিকেটে জাগরণ হয়েছে। আমরা চাই ফুটবলেও তাই হোক। করোনায় ভয় একটু আছে। তবে দেশের স্বার্থে এসেছি। পুরো দলকে সাপোর্ট করতে এসেছি।’
গ্যালারিতে প্রবেশের আগে সবার শরীরের তাপমাত্রা দেখা হয়েছে। স্যানিটাইজার দিয়ে জীবাণুমক্ত করাও হয়েছে। এছাড়া আগের দিন পুরো স্টেডিয়াম জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে।
শনির আখরা থেকে আসা ওমর ফারুক মাস্ক পরে গ্যালারিতে ঢোকার মুহূর্তে বললেন, ‘এবার দলকে সহযোগিতা করতে আসছি। ভালো লাগছে। অনেকদিন পর মাঠে দর্শক ফিরছে। খেলা দেখতে পারছি। আশা করছি, আমরা জয় নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবো। খেলোয়াড়রা করোনার মধ্যে খেলছে। আমরা তাদের সহযোগিতা করবো গ্যালারিতে থেকে।’
এখন মাঠের খেলাতে জামাল-জীবনরা মনভরানো পারফরম্যান্সে ভক্ত-সমর্থকদের ভালোবাসার মূল্য দিতে পারেন কিনা, সেটাই দেখার!