বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ৮১ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে সোহেল রানার থ্রু থেকে বাঁ প্রান্ত দিয়ে উঠে প্রতিপক্ষ গোলকিপারকে ডজ দিয়ে দূরের পোস্টে বল ঠেলে গোটা বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসিয়েছেন তিনি। এই সময় দুই ডিফেন্ডার পাশে থেকেও রুখতে পারেননি সুফিলকে। এমন দৃষ্টিনন্দন গোল ঢাকার মাঠে কমই দেখা যায়। তাছাড়া লাল-সবুজ জার্সিতে কবে এমন গোল এসেছে, স্মৃতি হাতরে বের করা কঠিনই।
তবে ২০১৮ সালে লাওসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে অভিষেকেই গোল করা সুফিল মনে করছেন, তার কঠিন অধ্যবসায়ই তাকে এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। ঘরোয়া ফুটবলে বসুন্ধরা কিংসে একঝাঁক তারকার কারণে বেশিরভাগ সময়ে তার খেলা হয় না। তবে অনুশীলনে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, যাতে সুযোগ পেলেই নিজেকে নিংড়ে দেওয়া যায়।
সুফিল বাংলা ট্রিবিউনকে বলছিলেন, ‘আসলে এটা হয়েছে কঠোর পরিশ্রমের কারণে। আমি ঘরোয়া ফুটবলে দলে সেভাবে সুযোগ পাই না। দলে অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। সে কারণে হয়তো। সেখানে আমাকে লড়াই করতে হচ্ছে। তবে আমার মধ্যে জেদটা বেশি, খেলতে হবে, খেলার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সেই চিন্তা থেকেই এখন পর্যন্ত যা করছি।’
সবশেষ দুই বছর আগে সাফ ফুটবলে ভুটানের বিপক্ষে গোল পেয়েছিলেন সিলেট থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার। তৃতীয় বিভাগের দল দিলকুশা, তারপর আরামবাগ হয়ে এখন বসুন্ধরা কিংসে আছেন। নেপালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে কিছু একটা করবেন, তা আগেই থেকেই পণ করে রেখেছিলেন সুফিল। তাই দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হয়ে নেমে সুযোগটা কাজে লাগাতে ভুল করেননি। সুফিল ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, ‘শুরুতেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। যখন বল নিয়ে ঢুকছি, দূরের পোস্ট খালি ছিল। গোলকিপারের পাশ দিয়ে বল জালে ফেলবো। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু সার্থক হয়েছে।’
বল জালে জড়াতেই জার্সি খুলে দর্শক সারির সামনে তার বাধভাঙ্গা উল্লাস। হলুদ কার্ড দেখতে হবে তা যেন বেমালুম ভুলেই গেছেন। গোল করার উদযাপন যে বলে কথা! সুফিল কিন্তু এখানেই থেমে থাকতে চান না। সামনে অনেক পথ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য তার। গোলের পর প্রধান কোচ জেমি ডে ও তার ক্লাবের কোচ অস্কার ব্রুজনের অভিনন্দনও পেয়েছেন। সুফিল বললেন, ‘আমি মনে করি আগের চেয়ে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে। ডে শুভকামনা জানিয়েছেন। যেমন খেলছি তা ধরে রাখতে বলেছেন তিনি। অনেকদিন পর গোল পেয়েছি, ব্রুজনও অভিনন্দন জানিয়েছেন। গোলটা ভালো হয়েছে বলেছেন।’
সামনে নেপালের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। সুযোগ পেলে আবারও গোল করতে মুখিয়ে সুফিল।