নতুন বছরে ফুটবলে কী লক্ষ্য বাংলাদেশের?

বাংলাদেশ ফুটবল-8নতুন বছর শুরু হয়েছে। এসেছে ২০২১ সাল। নতুন বছরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) প্রচুর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূচিও নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ও সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ছাড়াও আছে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাই পর্ব। এছাড়া প্রীতি ম্যাচও খেলার কথা আছে। নতুন বছরে জামাল ভূঁইয়াদের ব্যস্ত সময় কাটবে। তবে তাদের ইংলিশ কোচ জেমি ডেও নতুন বছরে চ্যালেঞ্জ একটু বেশি মনে করছেন। আর বছর শেষে জামালদের র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির কথা বলতে ভুল করেননি তিনি।

গত বছরটি জাতীয় দলের জন্য মিশ্র সময় কেটেছে। করোনার কারণে তেমন খেলা হতে পারেনি। বছরের শুরুতে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে সেমিফাইনাল থেকে বিদায়, করোনা বিরতির পর নেপালের বিপক্ষে সিরিজ জিতে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে কাতারের কাছে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে।

দলের র‌্যাঙ্কিং এখন ১৮৬। ডে চাইছেন নতুন বছরে অন্তত ৭ থেকে ৮ ধাপ উন্নতি। বাংলা ট্রিবিউনকে এই কোচ বলেছেন, ‘র‌্যাঙ্কিং তো এগিয়ে নিতে চাই। তবে কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে, বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে প্রতিপক্ষ বেশ শক্তিশালী। সবার বিপক্ষে আমাদের লড়াই করার চেষ্টা করতে হবে। তাই বলছি র‌্যাঙ্কিংয়ের উন্নতি করা সহজ হবে না। তবে বছর শেষে ১৭৯ থেকে ১৮০-তে থাকলে ভালো হবে।’

নিজেদের মাঠে প্রায় সব আন্তর্জাতিক ম্যাচ হবে। তাই প্রত্যাশা একটু বেশি। ডে দেখছেন অন্যভাবে, ‘সবসময় প্রত্যাশা বেশি থাকে। যতই প্রতিপক্ষ আমাদের চেয়ে এগিয়ে থাকুক না কেন। বাংলাদেশে এটাই জীবন। যা কখনও বদল করা যাবে না। আমরা তো সবাই ফুটবলকে ভালোবাসি। তবে একজন কোচ হিসেবে আমাকে বাস্তববাদী হতে হয়।’

এরপর ডে বললেন, ‘নিজেদের মাঠে খেললে সুবিধা একটু বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু যখন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলা, তখন সেটা সেভাবে কাজে লাগে না। তবে আমাদের নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। নিজেদের মাঠে যদি বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ভালো করতে পারি তাহলে বলবো দলের উন্নতি হয়েছে।’

আসছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে ডের লক্ষ্য, ‘মার্চে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আছে। সেমিফাইনালে উঠতে পারলে তখন ফাইনালের স্বপ্ন দেখা যাবে। আমি মনে করি, বিশ্বকাপের আগে আমাদের প্রস্তুতিও ভালো হবে। আর সাফসহ সবকটি প্রতিযোগিতায় অন্তত সেমিফাইনালে উঠতে চাই। আর বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে পয়েন্ট নিতে চাই। আসলে সবাইকে বাস্তববাদী হতে হবে।’

নতুন বছরটি চ্যালেঞ্জিং হবে বলে তার অভিমত, ‘তবে নতুন বছরটি চ্যালেঞ্জিং হবে, তা বলে দেওয়া যায়। তবে এখন ঘরোয়া ফুটবল চলছে। আশা করছি, আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে দলের সবাইকে আগের চেয়ে ফিট পাবো। তবে করোনার কারণে নিরাপদে প্রতিযোগিতা আয়োজনও বড় চ্যালেঞ্জ।’