শেষপর্যন্ত বাজে রেফারিংয়ের শিকার হয়ে এবারও ট্রফি ছোঁয়া হলো না আবাহনী লিমিটেডের। রেফারির এমন বাজে সিদ্ধান্তের কারণে সমর্থকরাও এখন খুব বিক্ষুদ্ধ। এক সমর্থক তো বলেই বসলেন, ‘রেফারি হয়তো ইচ্ছে করেই প্রতিপক্ষকে অন্যায্য সুবিধা দিয়েছে। তা নাহলে এভাবে বাজে রেফারিংয়ে খেলাটাকে নষ্ট করে দিতো না। রেফারি নিশ্চিত গোল বাতিল করে দিয়ে আবাহনীকে ম্যাচে ফিরতে দেয়নি।’
ফেডারেশন কাপে বাজে রেফারিংয়ের উদাহরণটা এবার চোখে পড়ছে খুব। এর ফলে গতিশীল ফুটবল ম্যাচেরই সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ ঘটনাটা ঘটেছে ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আবাহনী মুখোমুখি হয়েছিল বসুন্ধরার।
অতীতে দল দুটির লড়াইয়ে টান টান উত্তেজনার কারণে সমর্থকদের আগে থেকেই সংশয় ছিল যে আকাশি-নীলদের বিপক্ষে বাজে রেফারিং কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। শেষপর্যন্ত হয়েছেও তাই। যে কারণে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েই তাদের চরম মূল্য দিতে হলো।
গ্রুপ পর্বের পর নক আউট পর্বের শুরুতেও আবাহনীর বিপক্ষে একের পর ভুল বাঁশি বেজেছিল। যেটি অব্যাহত ছিল আজকের ম্যাচেও। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ১২০ মিনিটের ম্যাচটাতে নানানভাবে আবাহনীর সাবলীল খেলা বিঘ্নিত করেছেন রেফারিরা। আগে গোল করে আবাহনী এগিয়ে গিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু এরপর থেকে জীবন-তোরেসদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথটা কঠিন করে তুলেছিল রেফারিদের বাজে সিদ্ধান্ত। কোনও সময় অফসাইডের অজুহাতে কিংবা ফাউলের কারণে।
এই যেমন অতিরিক্ত সময়ের খেলার কথাই বলা যাক। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর সেটি গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে প্রথমার্ধে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অবশ্য ফেরনান্দেজ বক্সে বল পেয়েও শট নিতে পারেননি। তবে ১০৯ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি তুলে এগিয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। শেষ দিকে সমতা ফিরিয়েছিল আবাহনীও। শেষ মিনিটে তোরেসের পাস থেকে আগুয়ান গোলকিপার জিকোকে টপকে নাবীব নেওয়াজ জীবন গোল করেছিলেন। কিন্তু সহকারি রেফারি ইকবাল আলম সেই আনন্দে জল ঢেলে দিয়েছেন এর পর। সবাইকে অবাক করে দিয়ে বিতর্কিতভাবে অফসাইডের পতাকা তোলেন তিনি! আর মূল রেফারি সুজিত ব্যানার্জি সেই পতাকা দেখে বাঁশি বাজিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্তব্ধ করে দেন আবাহনীর সমর্থকদের। তার পর শেষ দিকের যোগ হওয়া সময়ে গোল করে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বসুন্ধরা।
কিন্তু টেলিভিশন রিপ্লেতেও দেখা গেছে, সহকারি রেফারি পতাকা উত্তোলন করেছিলেন অনেক দেরিতেই! আবাহনীর খেলোয়াড়রা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানালেও রেফারি তাতে কর্ণপাত করেননি। সেটি হলে স্কোরে চলে আসতো ২-২ সমতা। তখন পেনাল্টি ভাগ্যেই নির্ধারিত হতে পারতো বিজয়ী। কিন্তু বার বার প্রশ্নবিদ্ধ রেফারিং বিজয়ী নির্ধারণ করে দিয়েছে তার আগেই!