ব্রাদার্সকে নিয়েই শুরু হচ্ছে ফুটবল লিগ

করোনাভাইরাসের প্রভাবে আগের মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলের প্রথম পর্বই শেষ হতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত লিগ বাতিলই করতে হয়। এবার করোনা বাস্তবতা মেনে লিগের ১৩তম আসর শুরু হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার শুরুর দিনে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস ও উত্তর বারিধারা। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকেল ৪টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

এবার একাধিক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে গড়াচ্ছে লিগ। গতবার ৬ ভেন্যুতে খেলা হলেও এবার তা কমে চারটিতে এসেছে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম ছাড়াও কুমিল্লা, গাজীপুর ও মুন্সিগঞ্জে খেলা হবে। বিদেশি খেলোয়াড় চারজন নিবন্ধন করে চারজনই খেলাতে পারবে দলগুলো। তবে দল ১৩টিই থাকছে। ব্রাদার্স ইউনিয়নের খেলা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও সোমবার প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি তাদের লিগে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে।

আগের ১২ প্রতিযোগিতায় ঐতিহ্যবাহী আবাহনীর সাফল্য সবচেয়ে বেশি। সর্বোচ্চ ছয়টি শিরোপা তাদের। শেখ জামাল তিনটি এবং শেখ রাসেল ও বসুন্ধরা একটি করে ট্রফি জিতেছে। আর গতবার লিগ বাতিল হয়েছে।

শুরু হতে যাওয়া নতুন লিগ মৌসুমে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে। বিশেষ করে, বসুন্ধরা চায় শিরোপা ধরে রাখতে, আর আবাহনীর লক্ষ্য পুনরুদ্ধারের।

আবাহনী ফেডারেশন কাপের ফাইনালে যেতে পারেনি। সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে। বাজে রেফারিংয়ের শিকার তারা। তবে লিগে ভালো করতে চায় আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। তাদের পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘ফেডারেশন কাপে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ফাইনাল খেলতে পারিনি। তবে এখন লিগে ভালো করতে চাই। সেই লক্ষ্যে আমাদের অনুশীলন চলছে। আশা করছি, আমরা ভালো করতে পারবো। অবশ্যই আমরা লিগ শিরোপা জিততে চাই। এজন্য মাঠে সবাইকে সর্বোচ্চটা দিতে হবে।’

এবারের মৌসুমে আফ্রিকানদের দাপট কিছুটা কমেছে। বড় দলগুলোতে আক্রমণভাগে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের সমাহার। তাই লাতিন ছন্দের পাশাপাশি আফ্রিকানদের ‘শরীর নির্ভর’ খেলাও দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা লাতিন খেলোয়াড়দের নিয়ে নিজেদের চ্যাম্পিয়নশিপ ধরে রাখতে চাইছে। তাদের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন বলেছেন, ‘আমরা দলীয় প্রচেষ্টায় সাফল্য পাচ্ছি। সবাই নিজেদের খেলাটা খেলতে পারছে।। তাই ট্রফি আসছে। লিগেও আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’

শেখ রাসেলের কোচ সাইফুল বারী টিটু আগেই বলেছেন, ‘আমার দল নিয়ে লিগে ভালো করতে চাই। আমাদের প্রস্তুতি খারাপ নয়। মনে হচ্ছে আগের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।’

মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদের অধিনায়ক জাপানের ইউসুকে কাতোর ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা, ‘আমাদের স্পন্সর সমস্যা মিটে গেছে। এখন খেলোয়াড়রা ভালো খেলার জন্য চেষ্টা করবে।’

শেখ জামাল, চট্টগ্রাম আবাহনী কিংবা হালের সাইফ স্পোর্টিংও চোখ রাখছে শিরোপায়। আর উত্তর বারিধারা, রহমতগঞ্জসহ মাঝারি মানের দলগুলো টিকে থাকার পাশাপাশি মাঠে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখানোর অপেক্ষায়।