নতুন ভূমিকায় সেই মিরোনা

প্রায় দুই বছর আগে পেশাদার ফুটবলে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে সিটি এফসি দলের হেড কোচ হয়ে চমকে দিয়েছিলেন মিরোনা। একজন মেয়ে ছেলেদের কোচ, বাংলাদেশের ফুটবলে আগে হয়নি। সেই মিরোনাকে এই বছর দেখা যাবে নতুন ভূমিকায়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কোচিং প্যানেলে যোগ দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই ফুটবলার। তৃণমূলসহ বিভিন্ন পর্যায়ে খেলোয়াড় বাছাই কিংবা অনুশীলনে নিজের মেধা বিকাশের সুযোগ থাকছে তার। এতে করে দেশের জন্য ভবিষ্যতের তারকা তৈরি করার সুযোগ পাচ্ছেন মিরোনা।

আর এমন চ্যালেঞ্জ তিনি নিচ্ছেন অবলীলায়। দেশব্যাপী অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল বাছাইয়ে নিজ জেলা বাগেরহাটের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। অন্য কোচদের সঙ্গে মিলে শুধু বাগেরহাট নয়, পুরো খুলনা বিভাগ থেকে খেলোয়াড় বাছাই করার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন মিরোনা।

তার মতে, এতে অন্তত নিজের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ মিলছে। বাংলা ট্রিবিউনকে জাতীয় দলের সাবেক এই ফুটবলার বলেছেন, ‘এবার নতুন জায়গায় কাজ করার সুযোগ এসেছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করতে পারবো। তাদের অনুশীলনে শেখাতে পারবো। খেলোয়াড়ি জীবন কিংবা কোচিংয়ে যা কিছু শিখেছি তা কাজে লাগাবো। আমি এমন দায়িত্ব পেয়ে বেশ খুশি।’

মিরোনার কোচিং ক্যারিয়ারের ঘটনাটা বেশ রোমাঞ্চকর। এজন্য একটু পেছনে ফিরে তাকাতে হবে। চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে হেড কোচের এএফসি ‘বি’ লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তখনকার সিটি এফসি কোচের এই লাইসেন্স ছিল না। ছিল নৌবাহিনীতে কর্মরত মিরোনার কাছে। তাই তার দ্বারস্থ হয় দলটি। সিটি এফসির ডাকে সাড়া দিতে দ্বিধা করেননি মিরোনা। অনুশীলনে ফুটবলের আধুনিক কলাকৌশল শিখিয়ে অল্প সময়েই শিষ্যদের মন জয় করে নিয়েছিলেন তিনি।

বর্তমানে তিনি বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে বিপিএড কোর্সও শেষ করেছেন। বাফুফের প্যানেলভুক্ত কোচ হয়ে মিরোনার দৃষ্টি এখন আরও সামনে, ‘আমাদের এখানে নারী ফুটবল কোচের সংখ্যা কম। এটা আমাকে খুব কষ্ট দিতো। তাই কোচিং কোর্স করার সিদ্ধান্ত নিই। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে মেয়েদের জাতীয় দলকে কোচিং করাতে চাই। পাশাপাশি ছেলেদের যে কোনও দলের হয়েও কোচিং চালিয়ে যেতে চাই।’

এখানেই থেমে থাকতে চান না মিরোনা। নিজেকে আরও শাণিত করতে চান। এএফসি ‘এ’ লাইসেন্স করার ইচ্ছা আছে তার। এমনিতে অবশ্য চলমান এএফসি ‘এ’ ডিপ্লোমা কোর্সে নাম দিয়েছেন। লক্ষ্য একটাই, নিজেকে আরও উঁচুতে নেওয়া।

অবশ্য এই পরযন্ত আসতে বেশ গলদঘর্ম হতে হয়েছে তাকে। উচ্চতাই তাকে পিছিয়ে দিয়েছিল। তবে ৪ ফুট ৮ ইঞ্চির উচ্চতার মিরোনা হার মানেননি। জাতীয় পর্যায়ে দূরপাল্লার দৌড়ে সাফল্য আছে তার। আর ঘরোয়া ফুটবল ছাড়াও জাতীয় দলের সদস্য ছিলেন ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত।

দৃঢ় মানসিকতাই তার চলার পথে পাথেয়। মিরোনা বলছিলেন, ‘অনেকে প্রথম দেখায় আমার যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাইতো না। আমাকে দেখে মুখ ঘুরিয়ে নিতো। উচ্চতার কারণে আমার বদলে অন্য কাউকে বেছে নিতেন কোচ। এর জন্য আমাকে কম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি। আজকের এই পর্যন্ত আসতে আমাকে একটু বেশিই পরিশ্রম করতে হয়েছে। তাই এখন আমাকে বর্তমান অবস্থায় দেখে অনেকেই অবাক হয়। সাধুবাদ জানায়।’

তার পরিশ্রমই এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। পরিশ্রম তার চলছেই। সে কারণেই নতুন দায়িত্বে এবার নতুন মিশনে মিরোনা।