দীর্ঘ ১৪ বছরের ক্যারিয়ার তার। নিজ দেশ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন স্তরের ক্লাবগুলোতে কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। কথা হচ্ছে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের কোচ রাজা ইসার। অভিজ্ঞতার সমৃদ্ধ ভাণ্ডার নিয়েই বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু কী দুর্ভাগ্য, এত অভিজ্ঞতা থাকার পরেও বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে মোটেও সুবিধা করতে পারছেন না ৫৪ বছর বয়সী কোচ।
রাজা ইসার হয়ে কথা বলছে চলমান প্রিমিয়ার লিগই। এককালের দাপুটে দল মুক্তিযোদ্ধার এখন দূরাবস্থা। সেই যে এক ম্যাচ জেতা হয়েছে, এর পর থেকে জয় যেন তাদের কাছে সোনার হরিণ! শুধু কী তাই, ড্রও করে এক পয়েন্টও নিতে পারছে না দলটি। এ নিয়ে ইসার আক্ষেপও কম নয়।
এমনিতে মৌসুমের শুরু থেকে আর্থিক কষ্টে ছিল মুক্তিযোদ্ধা। পৃষ্ঠপোষকদের অভাবে দল চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে জাপানি অধিনায়ক ইউসুকে কাতোর প্রচেষ্টায় সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে প্রায়। এখন আর্থিক দীনতা দূর হলেও পারফরম্যান্সের গ্রাফ উঁচু করতে পারছে না মোটেও। এক আরামবাগ ছাড়া বাকি ৫ ম্যাচ থেকে তাদের অর্জনের খাতা শূন্য!
অথচ বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে মালয়েশিয়ার কোচ এমনিতেই দেখা যায় না। সম্ভবত ইসাই প্রথম কোনও কোচ যে, ঘরোয়া ফুটবলে কোনও ক্লাবের দায়িত্বে আছেন। চলমান পরিস্থিতিতে ইসার কপালে তাই চিন্তার ভাঁজ। বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন সেই কথাই, ‘আমরা কঠোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। কীভাবে এই জায়গা থেকে দল উত্তরণ করতে পারে। খেলাতে আরও মনোযোগ দেওয়া যায়। একই সঙ্গে ট্যাকটিক্যালিও আরও ভালো কীভাবে করা যায়।’
তবে গতবার স্থানীয় কোচ আব্দুল কাইয়ুম সেন্টুর অধীনে মুক্তিযোদ্ধা সেভাবে খারাপ করেনি। মাঝামাঝি অবস্থানে থেকে লড়াই করেছে। এবার সেই লড়াকু মানসিকতাও নেই দলটির মাঝে। অনেকে বলছে, বিদেশি কোচ এনেও ভাগ্য পরিবর্তন করা গেলো না! রাজা ইসা অবশ্য সহজেই হাল ছেড়ে দিচ্ছেন না, ‘আমরা এক ম্যাচ জিতেছি। আশা করছি, পরের ম্যাচ থেকে ভালো করতে পারবো। জিততে পারবো। আমার মনে হয় ফিনিশিং সমস্যা বেশি। বিদেশিরা আরও ভালো খেলতে পারলে ভালো হতো। বিশেষ করে ৯ ও ১০ নম্বর জার্সিধারীরা। তবে যাই হোক না কেন আমাদের সামনের দিনগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।’
এর জন্য প্রতিটি বিভাগে উন্নতি চান ৫৫ বছর বয়সী কোচ। তার কথা, ‘এটা ঠিক যে এখন আমাদের সব জায়গায় উন্নতি করা ছাড়া বিকল্প নেই। পারফরম্যান্স বৃদ্ধি করতে হবে। লিগের দ্বিতীয় পর্বের আগে আমাদের যে করেই হোক নিজেদের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে হবে।’
তবে ইসা যতই আশার কথা শোনান না কেন। মুক্তিযোদ্ধার জন্য এবার প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে তার চাকরিও!