একটি শিরোপা জিততেই যেখানে পাড়ি দিতে হয় কত কঠিন পথ, সেখানে কিনা এক মৌসুমে ছয় শিরোপা! ইউরোপিয়ান ফুটবলে একটি ক্লাবের জন্য সর্বোচ্চ রাখা ছয় শিরোপার (ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সে সাতটি) ছয়টিই নিজেদের করে নেওয়া তো মুখের কথা নয়। যে কাজটি এতদিন একমাত্র ক্লাব হিসেবে করে দেখিয়েছিল পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনা। ‘এতদিন’ বলার কারণ হলো, কাতালানদের সেই রেকর্ডে এবার ভাগ বসিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। জার্মান ক্লাবটি জিতেছে সম্ভাব্য ছয় শিরোপার সবকটি।
২০১৯-২০ মৌসুমের পাঁচ শিরোপা ঘরে তোলা ছিল আগেই। আর বৃহস্পতিবার রাতে ক্লাব বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরে বায়ার্ন জিতে নিয়েছে রেকর্ড ছয় শিরোপা। ২০০৯ সালের বার্সেলোনার পর এবার অবিশ্বাস্য কীর্তিটি করে দেখালো ব্যাভারিয়ানরা। ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে বেঞ্জামিন পাভার্দের একামাত্র গোলে মেক্সিকান ক্লাব টাইগার্সকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে হান্সি ফ্লিকের দল।
তাতে বুন্দেসলিগার জায়ান্টরা এখন জার্মানি, ইউরোপ ও বিশ্বের অবিসংবাদিত চ্যাম্পিয়ন। বায়ার্নের জেতা ছয় শিরোপা হলো- বুন্দেসলিগা, চ্যাম্পিয়নস লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ, উয়েফা সুপার কাপ, জার্মান কাপ ও জার্মান সুপার কাপ।
তাদের আগে প্রথম দল হিসেবে এক মৌসুমে ছয় শিরোপা জিতেছিল বার্সেলোনা। গার্দিওয়ার প্রতিরোধ্য বার্সা ঘরে তুলেছিল লা লিগা, কোপা দেল রে, স্প্যানিশ সুপার কাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগ, উয়েফা সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ।
জার্মান জায়ান্টদের এই সাফল্যের কারিগর প্রধান কোচ ফ্লিক। ২০১৯ সালের নভেম্বরে নিকো কোভাক বরখাস্ত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে বদলে যায় ক্লাবের চিত্র। ফ্লিকের অধীনে খেলা বায়ার্নের হারের (৫) চেয়ে বেশি শিরোপা (৬)!
ব্যাভারিয়ানদের নতুন কীর্তি অন্য এক মাত্রা যোগ করেছে ফ্রেঞ্চত্রয়ী- বেঞ্জামিন পাভার্দ, কোরেতিঁ তোসিলো ও লুকাস এর্নান্দেসের সাফল্যে। ২০১৮ বিশ্বকাপ জেতার পর তারা শুধু ছয়টি শিরোপা জিতলেন না, এখন এই ত্রয়ী ক্লাব ও আন্তর্জাতিক দুই অঙ্গনেরই চ্যাম্পিয়ন।