জাতীয় দল ও ক্লাব মিলে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে পেলেকে পেছনে ফেলেছেন রোনালদো।এমন কীর্তির দিনে পেলে অবশ্য অভিনন্দন জানিয়েছেন রোনালদোকে।
ব্রাজিল কিংবদন্তি ইন্সটাগ্রামে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ‘জীবনটা সব সময়ই একক সংগ্রামের। সবাই যার যার পথটা বেছে নেয়। সে হিসেবে তোমার সফরটা কম সুন্দর নয়। আমি তোমাকে সব সময়ই শ্রদ্ধা করি, তোমাকে খেলতে দেখতে ভালোবাসি, যেটা কারও কাছেই অজানা নয়। অফিসিয়াল ম্যাচে আমার রেকর্ড ভাঙার জন্য তোমাকে অভিনন্দন।’
রোনালদোর সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট দিয়ে আক্ষেপও করেছেন পেলে, ‘আমার আক্ষেপ হচ্ছে এই ভেবে যে, আজ কেন তোমাকে জড়িয়ে ধরতে পারলাম না। তবে এই ছবিটি তোমার সম্মানে গভীর মমত্ব দিয়ে দু’জনের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে এখানে দিলাম।’
অবশ্য এই গোলের রেকর্ড নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। গত জানুয়ারিতে রোনালদো ক্লাব ও জাতীয় দল মিলে জোসেফ বাইকানের সর্বোচ্চ ৭৬০ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন বলে বিভিন্ন মিডিয়া দাবি করলেও পরে জানা গেছে সেটাও সঠিক নয়। চেক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, তার গোল সংখ্যা ছিল ৮২১টি! সে হিসেবে তখন পেলের ৭৫৭ গোলও অতিক্রম করে ফেলেছিলেন রোনালদো।
কিন্তু পেলের দাবি ছিল ভিন্ন। তিনি বলেন, অফিসিয়াল ম্যাচে তার গোল ছিল ৭৬৭টি! রোনালদো অবশ্য সিরি আ’র ম্যাচে ক্যালিয়ারির বিপক্ষে নামার আগে এই গোলেই অবস্থান করছিলেন। ম্যাচটায় হ্যাটট্রিক করার পর অবশ্য আর কোনও সংশয় থাকে না যে তিনি পেলেকেও ছাড়িয়ে গেছেন।
রোনালদোও অবশ্য বিতর্কিত রেকর্ড নিয়ে চুপচাপই ছিলেন এতদিন। পেলের দাবি করা গোল পার হওয়ার পর ইন্সটাগ্রামে মুখ খোলেন তিনি। সেখান থেকেই বোঝা যায় সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে তিনি স্বীকৃতি দিচ্ছে পেলের দাবিকেই, ‘বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগের ফুটবল ও এদসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তোর (পেলে) প্রতি আমার চিরস্থায়ী ও শর্তহীন শ্রদ্ধা এতটাই যে, তার ৭৬৭ গোল বিশেষ করে সাউ পাউলোর ৯ গোল ও ব্রাজিলিয়ান মিলিটারি দলের এক গোলকেও আমি অফিসিয়াল হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছি। কারণ বিশ্ব তখন থেকেই পাল্টে গেছে। পরিবর্তন হয়েছে ফুটবলেরও। তাই বলে নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী ফুটবল ইতিহাস বদলে ফেলবো, এটা কখনোই কাম্য নয়।’
এর পরেই তিনি যোগ করে বলেছেন, ‘আমি আজ ৭৭০ গোল ছুঁয়েছি। এর পর আমার প্রথম কথাগুলি সরাসরি পেলের জন্যই। ফুটবল বিশ্বে এমন কেউ নেই যে পেলের গল্প, গোল ও অর্জনের কথা না শুনে বড় হয়েছে। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। আর সে কারণেই পেলের রেকর্ড ছাড়িয়ে গোলের তালিকায় শীর্ষে উঠায় আমার গর্ব ও উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। যা মাদেইরায় বেড়ে ওঠার সময় কখনও কল্পনা করিনি।’