মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর ভাগ্যটা খারাপই বলতে হবে। ২০১৬ সালে মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলে তার অভিষেক। এর পর চোটের কারণে অনেক দিন ঠিকমতো খেলতেই পারেননি। এবার পুরো ফিট হয়ে খেলছেন ঘরোয়া ফুটবলে। সেখানে আলো ছড়িয়েছেন গোলের সুন্দর সব প্রদর্শনীতে। এখন পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের প্রথম পর্বে ৬টি গোল করে স্ট্রাইকার সুমন রেজার সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষেও আছেন। যার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান তিনজাতি টুর্নামেন্টেও!
চোট কাটিয়ে আব্দুল্লাহর নিজেকে ফিরে পাওয়ার অন্যতম কারণ হলো জায়গা পরিবর্তন করে খেলা। আগে মিডফিল্ডার এরপর অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেছেন। নতুন পজিশন উইংয়েও খুব সাবলীল আব্দুল্লাহর পা! তাই বর্তমান পারফরম্যান্সের প্রদর্শনীটাই চাইছেন নেপালে!
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ হয়েছিল। সেই ম্যাচের আগে অনুশীলনে চোট পান। বাঁ পায়ের লিগামেন্টের চোটে মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে লম্বা সময়। তার পর মাঠে ফেরেন ঠিক ১১ মাস পর, ২০১৯ সালে। কিন্তু কয়েকটি ম্যাচ খেলে আবারও চোটগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এবার ব্যথা পেয়েছিলেন ডান পায়ে। যার দরুণ অনেক দিন পর নেপালে অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টে তার ডাক পড়েছে।
আর একদিন পরই কিরগিজস্তানের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। সেখানে প্রথম ম্যাচেই নামার আশা আব্দু্ল্লাহর। বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘অনেক দিন পর জাতীয় দলে ফিরেছি, অনুশীলন করেছি। অনেক ভালো লাগছে। এখন কোচের প্রত্যাশা পূরণ করতে চাই। একাদশে সুযোগ পেলে নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে খেলবো।’
শেখ রাসেলের কোচ সাইফুল বারী টিটুই মূলত আব্দুল্লাহর মাঠের পজিশন বদলে দিয়েছেন। উইং ধরে খেলে সিরাজগঞ্জের এই ফুটবলার সাফল্য পেতে শুরু করেছেন। আব্দুল্লাহর বড় গুণ হলো সেটপিসে গোল করতে তিনি সিদ্ধহস্ত! আবার মাপা ভলি শটে গোল করে এরই মধ্যে আলোচনায় চলে এসেছেন। এ প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘শেখ রাসেলে পজিশন বদলে আমি গোল পাচ্ছি। উইংয়ে খেলতে আমার ভালো লাগে। গতিতে বল নিয়ে ওপরে উঠা যায়। সেই পজিশনে খেললে গোলের সুযোগও আসে। আর সেটপিসের জন্য এমনিতে অনুশীলন করে থাকি। বক্সের ভিতরে ভলি শটে গোল করতে আমার ভালো লাগে।’
শেখ রাসেলে বখতিয়ার সহ অন্যদের আগে থেকেই বলা আছে। গোলের সামনে যেন আব্দুল্লাহকে ভলির বল দেওয়া হয়। তাতেই আব্দুল্লাহ সফল হয়েছেন একাধিকবার। তেমনটি তিনি করতে চান জাতীয় দলেও, ‘সতীর্থদের সবসময় বলে থাকি গোলের সামনে আমাকে ভলির বল দিতে। আমার ছয় গোলের দুটিই তো ভলি শটে। তবে সুযোগ পেলে জাতীয় দলের জন্য তা করে দেখাতে চাই।’
২৩ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ এখন পুরোপুরি ফিট। ঘরোয়া মৌসুমেও আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। এখন আন্তর্জাতিক স্তরে অনেক দিন পর নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ খুঁজছেন। আসন্ন টুর্নামেন্টে সেটি করতে পারলেই হয়।