ম্যানসিটি না চেলসি- ইউরোপসেরার মুকুট পরছে কে?

ফাইনালের লাইনআপ হওয়ার পরপরই একটা বিষয় নিশ্চিত হয়ে যায়, ইংল্যান্ডে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি। কারণটা সহজ। ফাইনালের টিকিট পাওয়া ম্যানচেস্টার সিটি ও চেলসি- দুটিই ইংল্যান্ডের দল। ফলে ‘অল ইংলিশ’ ফাইনালে উত্তেজনাও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এমনিতেই উত্তেজনার দিক থেকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ বিশ্বের সবচেয়ে জমজমাট ফুটবল প্রতিযোগিতা, সেই তাদের দুই দলের লড়াই চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালকে করেছে আরও আকর্ষণীয়।

বাংলাদেশ সময় আজ (শনিবার) দিবাগত রাত ১টায় উত্তেজনার ডালি সাজিয়ে উপস্থিত হচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল। অল ইংলিশ ফাইনালে শিরোপা কে জিতবে, সেটা নিয়েই চলছে নানান হিসাব। কারও বাজি ম্যানচেস্টার সিটি, কেউ আবার চেলসির হাতে দেখছে ইউরোপসেরার ট্রফি। তবে যারাই মুকুট পরুক, পর্তুগালের পোর্তোর এস্তাদিও দু দ্রাগাওয়ে যে রোমাঞ্চকর এক ফাইনাল হতে যাচ্ছে, সেটা নিয়ে সন্দেহ নেই কারও।

দর্শক ছাড়া আসলে কোনও খেলারই আবেদন সেরকম থাকে না। খেলোয়াড়রাও তাদের শক্তি সঞ্চার করেন সমর্থক-দর্শকদের করতালির মাধ্যমে। করোনাভাইরাসে সেই উপলক্ষ পাচ্ছে না ফুটবলাররা। তবে পোর্তোর ফাইনালে কিছু হলেও দর্শকদের সমর্থন পাচ্ছে ম্যানসিটি-চেলসি। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে গ্যালারিতে থাকবেন সাড়ে ১৬ হাজার দর্শক।

ইতিহাস গড়ার সামনে দাঁড়িয়ে ম্যানসিটি। প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার সুযোগ তাদের সামনে। অন্যদিকে ২০১২ সালের পর আবারও ইউরোপসেরা হওয়ার দিকে তাকিয়ে চেলসি। দুই দলই পাচ্ছে পুরো ফিট থাকা স্কোয়াড। যদিও ম্যানসিটি মিডফিল্ডার অনুশীলনের সময় ফের্নান্দিনিয়োর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে কিছুটা আঘাত পেয়েছেন, অবশ্য গুরুতর কিছু হয়নি।

কয়েক বছর ধরেই চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখছে ম্যানসিটি। কিন্তু শিরোপা তো দূরে থাক, কোয়ার্টার ফাইনালেই ওঠা হচ্ছিল না তাদের। অতীতের সব ব্যর্থতা ঝেরে পেপ গার্দিওলার দল উঠেছে শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে। ম্যানসিটির সামনে প্রথমবার ইউরোপ জয়ের হাতছানি থাকলেও, গার্দিওলার সামনে তৃতীয়বার সেরা হওয়ার সুযোগ। ২০০৯ ও ২০১১ সালে বার্সেলোনা কোচ হিসেবে তিনি জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ। এটি তার তৃতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালও। ১০ বছর পর ফিরেছেন এই মঞ্চে।

অন্যদিকে চেলসি ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার ট্রফি জিতলেও কোচ টমাস টুখেলের সামনে প্রথম সুযোগ। গত বছর প্যারিস সেন্ত জার্মেইকে নিয়ে ফাইনাল খেললেও বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হার মানতে হয়। সেই কষ্ট দূর করার সুযোগ পাচ্ছেন পোর্তোর ফাইনাল দিয়ে।

এবারের মৌসুমে ম্যানসিটি প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে, জিতেছে লিগ কাপের শিরোপাও। অন্যদিকে চেলসির কিছুই জেতা হয়নি, লিগে হয়েছে চতুর্থ। তবে হিসাবে রাখতে হবে চেলসির দুই দফা ম্যানসিটিকে হারিয়ে দেওয়ার রেকর্ড। এফএ কাপ থেকে বিদায় করে দেওয়ার পর লিগেও গার্দিওলাকে হারিয়েছেন টুখেল। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে তাই কাউকে এগিয়ে রাখার সুযোগ নেই।

ফলে উত্তেজনার ঠাসা একটি ফাইনাল যে মঞ্চায়িত হতে যাচ্ছে, সেটা চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়। তৈরি তো?