বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে আর কয়েক ঘণ্টা পরই আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। নিকট-অতীতে আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের রেকর্ড নেই। তবে ২০১০ সালে ঢাকার এসএ গেমসে বাংলাদেশ সোনা জিতেছিল আফগানদের হারিয়েই। সেখানে খেলেছিল অনূর্ধ্ব-২৩ দল। আর ১৯৭৯ সালে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে একমাত্র জয়টি ছিল ৪-১ ব্যবধানে। এই ম্যাচ জয়ের স্মৃতি এখনও উজ্জ্বল দেশের সাবেক তারকা উইঙ্গার ও সেই ম্যাচে জয়ের নায়ক আশরাফ উদ্দিন চুন্নুর মনে।
সেবার ঢাকায় প্রথম ম্যাচে কাতারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর তৎকালীন ঢাকা স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে পরের বছরের এশিয়ান কাপে জায়গা করে নেয় লাল-সবুজ দল। চুন্নু সেই ম্যাচের স্মৃতি রোমান্থন করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘কাতারের সঙ্গে ড্র করে পরের ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে জেতার মিশন ছিল। জিতলেই আমরা চূড়ান্ত পর্বে। তাই প্রাণপন লড়াই করেছিলাম। আক্রমণাত্মক খেলে ম্যাচ জিতেছি।’
সেই ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে প্রথম গোলটি করেছিলেন চুন্নু নিজেই। একপর্যায়ে তিন গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। কাজী সালাউদ্দিন ও আব্দুল হালিম একটি করে গোল করেন। চতুর্থ গোলটি অন্য সতীর্থের।
সেই ম্যাচের স্মৃতি নিয়ে এই সাবেক তারকা বলেছেন, ‘আমি সাধারণত লেফট উইংয়ে খেলি। ওই ম্যাচে অনেকটা সময় রাইট উইংয়ে খেলেছি। মাঝমাঠ থেকে ভালো একটা বল পেয়েছিলাম। একজনকে কাটিয়ে বক্সের প্রান্ত থেকে দূরপাল্লার শটে লক্ষ্যভেদ করেছিলাম।’
তখনকার সময়ের আফগান দল সম্পর্কে তার মূল্যায়ন, ‘আফগনরা শারীরিক দিক দিয়ে এগিয়ে ছিল। কিন্তু আমরা টেকনিক্যালি এগিয়ে ছিলাম। আমাদের ভালো মানের খেলোয়াড় ছিল, ফিটনেসও ভালো ছিল। যে কারণে ওরা আমাদের সঙ্গে পেরে উঠেনি। আমরা একচেটিয়া খেলে ম্যাচ জিতেছি।’
আজকের বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান ম্যাচ নিয়ে চুন্নুর প্রত্যাশা, ‘বর্তমান আফগান দল বাংলাদেশের চেয়ে ভালো। প্রায় সবাই ইউরোপে খেলে। এর মধ্যে আবাহনীতে খেলা মাসিহ সাইগানিও আছে। তবে এখন আমাদের পক্ষে জেতা সম্ভব, যদি শেষ মিনিট পর্যন্ত আমরা ভালো খেলতে পারি।’
অবশ্য একই সঙ্গে ভয়ও আছে চুন্নুর, ‘ওদের আক্রমণগুলো রুখে দিয়ে গোলপোস্ট অক্ষত রাখতে পারলে পয়েন্ট নেওয়া সম্ভব। যদিও এখন আমাদের দলে আগের মতো স্কিলডফুল খেলোয়াড়ের অভাব আছে। তার পরেও আমরা আশা দেখতেই পারি।’