মোহনবাগানের সঙ্গে ড্র করে স্বপ্নভঙ্গ বসুন্ধরার

এএফসি কাপে জোনাল সেমিফাইনালে খেলতে হলে জয় ছাড়া বিকল্প ছিল না বসুন্ধরা কিংসের। এটিকে মোহনবাগানের বিপক্ষে সেভাবেই খেলছিল বাংলাদেশের ঘরোয়া চ্যাম্পিয়নরা। আগে গোল করে এগিয়েও গিয়েছিল! কিন্তু একটি লাল কার্ড গতি-প্রকৃতি পাল্টে দিয়েছে ম্যাচের। ১০ জনের দল নিয়ে মোহনবাগানের সঙ্গে ১-১ ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বসুন্ধরা কিংস। তাতে নকআউট পর্বে যাওয়ার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে দলটির।

গ্রুপে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে মোহনবাগান গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নক আউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। আর বসুন্ধরা টানা দ্বিতীয় ড্রতে ৫ পয়েন্টে গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে বিদায় নিয়েছে।  

মঙ্গলবার মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে পাল্টা-পাল্টি আক্রমণ করে খেলেছে দু’দল। ম্যাচ ঘড়ির ১৩ মিনিটে বসুন্ধরা প্রথম আক্রমণে যায়। রবিনিয়োর ফ্রি-কিক থেকে এক প্রান্ত দিয়ে খালিদের হেড থেকে তপুর হেড এক ডিফেন্ডার প্রতিহত করেন। পরের মিনিটেও বসুন্ধরা সুযোগ পায়। কিন্তু রাউল বেসেরার শট এক ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করে ম্যাচে রাখেন দলকে।

১৮ মিনিটে মোহবাগানও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ডেভিড উইলিয়ামস বক্সে ঢুকে পড়ে পাস দেন লিস্টন কোলোসোকে। কিন্তু ফাঁকায় দাঁড়ানো কোলোসো পোস্টের বাইরে মেরে সুযোগটি নষ্ট করেছেন।

২৮ মিনিটে আবারও আক্রমণে উঠে বসুন্ধরা। এবার আর তাদের হতাশ হতে হয়নি। ব্রাজিলিয়ান ফেরনান্দেজের শটে এগিয়ে যায় তারা। বক্সের ভিতরে রবিনিয়োর পাসে দেখেশুনে গোলকিপার অমরিন্দার সিংকে পরাস্ত করেন এই মিডফিল্ডার।

গোল শোধে মোহনবাগানও কম চেষ্টা করেনি। কিন্তু সফল হতে পারছিল না। যেমন ৪০ মিনিটে রয় কৃষ্ণার শট ডিফেন্ডার খালিদ শাফিই পা বাড়িয়ে রুখে দিয়েছেন। ২ মিনিট পরও বক্সের বাইরে থেকে ডেভিড উইলিয়ামসের জোরালো শট রুখে দেন গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো।

বার বার প্রতিপক্ষকে রুখে দিলেও যোগ করা সময়ে বিপদে পড়ে যায় বসুন্ধরা। ফাউলের কারণে ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরাকে লাল কার্ড দেখান ওমানের রেফারি। তাতে বিরতির পর দলটি ১০জনের দল নিয়ে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে।

সেই সুযোগে ৬২ মিনিটে সমতা আনে মোহনবাগান। বক্সের ভিতরে সতীর্থের কাটব্যাক থেকে ফাঁকায় প্লেসিং করে দেন অস্ট্রেলীয় ফরোয়ার্ড ডেভিড উইলিয়ামস। এরপর দ্বিতীয় গোলও প্রায় পেয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ৭১ মিনিটে ডেভিড উইলিয়ামসের জোরালো শট প্রতিহত করে দিয়েছেন জিকো।

৮৪ মিনিটে আফসোস আরও বাড়ে বসুন্ধরার। বক্সের বাইরে থেকে রবিনিয়ো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে আর ম্যাচ জেতা হয়নি তাদের। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে অস্কার ব্রুজনের দল।