সামনের গ্রীষ্মে প্যারিস সেন্ত জার্মেইয়ের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে কিলিয়ান এমবাপ্পের। এর মধ্যে নতুন চুক্তি না হলে ফ্রি এজেন্ট হয়ে যাবেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তখন তাকে দলে ভিড়াতে পিএসজিকে কোনও অর্থ দিতে হবে না আগ্রহী ক্লাবকে। তাই এমবাপ্পে চেয়েছিলেন, এবারের গ্রীষ্মেই প্যারিস ছাড়তে। তাহলে নতুন ক্লাবে তার যোগ দেওয়াও হতো, আবার পিএসজিও তাকে বিক্রি করে পাওয়া অর্থটা কাজে লাগাতে পারতো।
যদিও তার ‘হিসাব-নিকাশে’ আগ্রহী ছিল না পিএসজি। গত জুলাইয়ে পার্ক ডু প্রিন্সেস ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানালেও রাজি হয়নি ফরাসি ক্লাব। ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি স্পোর্তকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেমনটাই জানিয়েছেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী তারকা।
পাগলাটে দলবদল গেছে এবারের গ্রীষ্মে। লিওনেল মেসি বার্সেলোনো ছেড়ে গিয়েছেন পিএসজিতে। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো জুভেন্টাস ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। এর মধ্যে এমবাপ্পের রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার নিয়েও ছিল জোর গুঞ্জন। মাদ্রিদের ক্লাবটি নাকি তিন দফায় ২২০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিল পিএসজির কাছে। এমবাপ্পে এত গভীরে না গেলেও নিশ্চিত করেছেন এবারের গ্রীষ্মে তিনি ছাড়তে চেয়েছিলেন পিএসজি।
আর এজন্য নিজে নিজে একটা হিসাবও কষেছিলেন। আর সেটা জানিয়েছিলেন ফরাসি ক্লাবটিকে। আরএমসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে এসব। প্যারিস ছাড়া নিয়ে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘আমি চলে যাওয়ার কথা বলেছিলাম। আর ওই সময় আমি চুক্তি নবায়ন করতে রাজি ছিলাম না। চেয়েছিলাম ক্লাব (পিএসজি) যেন আমার দলবদলের প্রস্তাব গ্রহণ করে, যাতে তারা কিছু টাকা পায় এবং সেটা দিয়ে মানসম্মত খেলোয়াড় আনতে পারে।’
কিন্তু পিএসজি রাজি ছিল না। বিশ্বকাপ জয়ী তারকার ভাষায়, ‘আমি ক্লাবকে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলাম যাতে তারা প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগ পায়। আমার আশা ছিল, আমরা দুই পক্ষই লাভবান হবো এবং ভালো একটা চুক্তি হবে।’
আগেভাগে পিএসজিকে জানানোর কারণও ব্যাখ্যা করলেন এমবাপ্পে, ‘আগস্টের শেষ সপ্তাহে গিয়ে সব ঠিকঠাক হবে, এই বিষয়টা আমার মোটেও পছন্দ ছিল না। তাই জুলাইয়ের শেষেই আমি ক্লাবকে জানিয়ে দেই, আামি চলে যেতে চাই। আমার অবস্থান পুরোপুরি পরিষ্কার ছিল। আমি বলে দিয়েছিলাম, আমি চলে যাবো এবং সেটা বেশ আগে।’
যেতে না পারলেও ক্লাবের সিদ্ধান্তে পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে তার এবং সুখেই আছে প্যারিসে, “আমি ক্লাবকে শ্রদ্ধা করি। এবং আমি তাদের একটাও বলেছিলাম, ‘যদি আপনারা চান আমি না যাই, তাহলে আমি থাকবো।’ লোকজন বলাবলি করে, আমি নাকি পিএসজির ছয়-সাতটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি, লিওনার্দোর (স্পোর্টিং ডিরেক্টর) সঙ্গে আমি কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছি। এগুলো মোটেও সত্য নয়। চার বছর ধরে এই ক্লাবে আমি সুখে আছি এবং এখনও তাই।’