জাতীয় ফুটবলারদের দল বদল নাটকের অবসান!

জাতীয় ফুটবলারদের দল বদল নিয়ে নাটকের আপাত দৃষ্টিতে অবসান হয়েছে। যেই নাটকের শুরু গত সোমবার রাতে। জাতীয় দলের টিম হোটেল পূর্বানীতে। রাত সাড়ে আটটায় শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের পরিচালক শেখ ইকবাল খোকন নিজের ফুটবলারদের নিয়ে যেতে আসেন। কিন্তু সফল হননি তিনি। পুলিশের হস্তক্ষেপে এদিন আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে অপ্রীতিকর ঘটনার রেশ রয়ে যায় মঙ্গলবারও। তখন সকাল সাড়ে ১১টা। হোটেল পূর্বানী থেকে সরাসরি বাফুফে ভবনে নিয়ে আসা হয় জাতীয় দলের ফুটবলারদের। কিন্তু সেখানে আগে থেকেই মহড়ায় ছিলেন বিভিন্ন ক্লাবের কর্মকর্তারা। উদ্দেশ্য নিজ নিজ খেলোয়াড়দের ক্লাবে নিয়ে যাওয়া। ক্লাব কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় ভবনে। কিন্তু তাতেও যেন কাজ হচ্ছিল না। ফুটবলারদের সঙ্গে টানা-হেঁচড়াও হয়। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে ফুটবলারদের সঙ্গে সভায় বসেন জাতীয় দলের ম্যানেজার ইলিয়াস হোসেন ও দলনেতা আজমল আহমেদ তপন। বাফুফে থেকে দেওয়া একটি আবেদনে মামুনুলসহ প্রায় অধিকাংশ ফুটবলাররাই ভবন থেকে সরাসরি বাড়ি যাওয়ার কথা লেখেন। সাবেক তারকা ফুটবলার ও শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের ফুটবল কমিটির কো-চেয়ারম্যান আবদুল গাফফার অন্য কর্মকর্তাদের নিয়ে উপস্থিত হন বাফুফেতে। লক্ষ্য ক্লাবের আগের চুক্তিবদ্ধ ১১ জন ফুটবলারকে নিয়ে যাওয়া। এরা হলেন- মামুনুল ইসলাম, রায়হান হাসান, শহিদুল আলম সোহেল, সোহেল রানা, শেখ আলমগীর কবির রানা, ইয়াসিন খান, ইয়ামিন মুন্না, জামাল ভূঁইয়া, নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সাখাওয়াত হোসেন রনি ও মোনায়েম খান রাজু। শেখ জামালের সঙ্গে এরা চুক্তিবদ্ধ বলে ১১ জনকে নিয়ে যেতেই ক্লাব কর্মকর্তারা বাফুফেতে উপস্থিত হন।

একই সঙ্গে আবাহনীর সত্যজিৎ দাস রুপু, শেখ রাসেলের সালেহ জামান সেলিম এবং চট্টগ্রাম আবাহনীর শাকিলও উপস্থিত হন। অনেকটাই মারমুখি অবস্থার সৃষ্টি হয়।ঠিক তখনি জাতীয় দলের ম্যানেজার ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘ক্লাব কর্মকর্তারা সবাই নিচে গিয়ে দাঁড়ান। ফুটবলাররা যেখানে যেতে চায়, তাদেরকে সেখানেই দিয়ে আসা হবে পুলিশি প্রহরায়। পরে তাদের সঙ্গে আপনারা যোগাযোগ করবেন।’ এরপরই ভবনের কনফারেন্স রুমে থাকা ফুটবলারদের জন্য তৃতীয় তলায় পুলিশি প্রহরা বাড়ানো হয়। শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের ফুটবল কমিটির কো-চেয়ারম্যান গাফফার বলেন, ‘আমাদের ক্লাবের সঙ্গে ওই ১১ জনের চুক্তি নবায়ন হয়েছে। অতএব তারা আমাদেরই খেলোয়াড়।’ তবে অধিনায়ক মামুনুল বলেন ভিন্ন কথা, ‘আমাদেরকে একটি সাদা কাগজে সই করতে বলা হয়েছিল। আমরা সই করে টাকা নিয়েছি। তবে ওই টাকা ক্লাব থেকে গেল মৌসুমের তৃতীয় পেমেন্ট হিসেবেই নিয়েছি।’ নাটকের তখনো বাকি। বিভিন্ন ভাবে ক্লাব কর্মকর্তারা তাদের ফুটবলারদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। অনেকেই সফল হন। শেষ পর্যন্ত আবাহনীর ফুটবলাররাও চলে যান সত্যজিৎ দাস রুপুর সঙ্গে। বেরিয়ে যাওয়ার সময় আবদুল গাফফার ও রুপুর মধ্যে কিছুটা বাদানুবাদও হয়। অবশেষে খালি হাতেই বেরিয়ে যান গাফফার। আর বলে যান, ‘এটা শেখ জামালের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। হ্যাটট্রিক শিরোপা বঞ্চিত করার জন্যই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।’ অবশেষে এই নাটকের সমাপ্তি হয় বেলা তিনটায়।

 

নতুন মৌসুমে তারকা ফুটবলারদের নয়া ঠিকানা

ঢাকা আবাহনী- জাহিদ হাসান এমিলি, ইয়াসিন খান, তপু বর্মন, শহিদুল আলম সোহেল, জুয়েল রানা, ওয়ালী ফয়সাল, নাবিব নেওয়াজ জীবন ও হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস।

চট্টগ্রাম আবাহনী- মামুনুল ইসলাম, রায়হান হাসান, সোহেল রানা, ইয়ামিন মুন্না, নাসির উদ্দিন চৌধুরী।

শেখ রাসেল- সাখাওয়াত হোসেন রনি, জামাল ভূঁইয়া, মোনায়েম খান রাজু, আতিকুর রহমান মিশু, শেখ আলমগীর কবির রানা, নাসিরুল ইসলাম ও গোলকিপার রাসেল মাহমুদ লিটন।

/আরএম/এফআইআর/