দেশের ফুটবলে ‘নবাব’ হতে চান তিনি

কাতারের লিগে খেলে গত মৌসুমে বাংলাদেশে এসেছেন ওবায়দুর রহমান নবাব। কিন্তু চোটের কারণে তিন ম্যাচের বেশি খেলতে পারেননি। চোট থেকে সুস্থ হতেই কপাল খুলে যায় তার। ডাক পেয়ে যান বাংলাদেশ দলে। পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমসের সুদৃষ্টিতে পড়ে যাওয়াতেই এই ডাক পাওয়া। বৃহস্পতিবার জাতীয় দলের প্রথম দিনের অনুশীলন হয়েছে। সেখানে বেশ আত্মবিশ্বাসী মনে হলো কাতার প্রবাসী ফুটবলারকে। প্রবাসী হয়েও বললেন, দেশের ফুটবলের ‘নবাব’ হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। 

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে কোচ মারিও লেমসের অধীনে ফুটবলাররা ঘাম ঝরিয়েছেন। সেখানে অন্যদের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন ২২ বছর বয়সী ফুটবলার নবাব। এত তাড়াতাড়ি ক্যাম্পে ডাক পাবেন, আশা করেননি। তাই অনুশীলনের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন , ‘ক্যাম্পে থাকতে পেরে আমি খুব খুশি। গত মৌসুমে চোটের কারণে খুব বেশি ম্যাচ-টাইম পাইনি। তাই আশা করিনি ডাক পাবো, কিন্তু কোচ আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। এই বন্ধের মধ্যে ফিটনেস ধরে রেখেছিলাম, ট্রেনিং করেছি। প্রথম দিন দলের সঙ্গে অনুশীলনটা উপভোগ করেছি।’

এখন শুধু উপভোগেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তিনি। নামের মতো বাংলাদেশের ফুটবলেরও নবাব হওয়ার স্বপ্ন তার। এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘‘আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো। আশা করি, একদিন দেশের ফুটবলের ‘নবাব’ হতে পারবো ইনশাআল্লাহ।’’

তবে সত্যিকার অর্থে ফুটবলে নবাব হতে হলে অন্যদের সঙ্গে লড়াই করতে হবে। কাতার প্রবাসী এই ফুটবলার সেই চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছেন, ‘সত্যি বলতে, এটা পুরোপুরি কোচের সিদ্ধান্ত। কোচ যদি মনে করে সেরা একাদশে জায়গা পাওয়ার জন্য আমি যথেষ্ট ফিট এবং দলে বাড়তি কিছু যোগ করতে পারি, তাহলে সুযোগ আসবে। তবে সেরা একাদশে জায়গা পাওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। শুধু চেষ্টা করবো নিজের সেরাটা দেওয়ার। আমি আত্মবিশ্বাসী, ইনশাআল্লাহ সুযোগ পাবো।’

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে নবাব ছিলেন চোটগ্রস্ত। তাই তো অস্কার ব্রুজন তাকে বিবেচনায় রাখেননি। তবে এ নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই নবাবের, ‘কোচ অস্কার সবার থেকে বেশি আমার পরিস্থিতিটা বুঝেছেন। তিনি আমাকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাননি। যদি আবার চাপের ম্যাচ খেলতাম, তাহলে চোটে পড়ার সম্ভাবনা আরও বেশি থাকতো। আমার ভালোর জন্যই তিনি আমাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন।’

এখন পর্যন্ত জামাল ভূঁইয়া ও কাজী তারিক রায়হান জাতীয় দলে প্রবাসী ফুটবলার হিসেবে খেলছেন। ফলে তাদের ভিড়ে একাদশে জায়গা পাওয়াটা খুব কঠিন। তারপরেও খুব আত্মবিশ্বাসী, ‘আমি আসলেই সেরা একাদশে জায়গা করে নিতে পারার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। এছাড়া জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারা সম্মানের। এজন্যই আমি বাংলাদেশে এসেছি। এখানে অনেকে আমার পরিচিত, সব মিলিয়ে আমি খুব আনন্দিত।’