দেশের ক্লাব ফুটবল কোচের কাছেই এখন বাংলাদেশের দায়িত্ব। ব্রুজনের পর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন আবাহনী কোচ মারিও লেমস। যার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট শ্রীলঙ্কায় আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় চার জাতি ফুটবল প্রতিযোগিতা।
তিন দিন আগে ঢাকায় এসেও নতুন ছাত্রদের নিয়ে মাঠে নামতে পারেননি। অনেকটা ‘অলস সময়’ কাটাতে হয়েছে। অবশেষে ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ২৪ জনের মধ্যে ১৪ জনকে নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের অনুশীলন করতে হয়েছে! বিলম্ব হওয়ায় যা এক অর্থে পর্তুগিজ কোচের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা।
২৪ জনের মধ্যে জামাল ভূইয়া ডেনমার্কে ও কাজী তারিক রায়হান আছেন ফিনল্যান্ডে। পারিবারিক কারণে ক্যাম্পে যোগ দেননি বিশ্বনাথ ঘোষ ও মতিন মিয়া। সোহেল রানাও অসুস্থ। এর বাইরে বাকি ১৯ জনের মধ্যে অনুশীলনে ছিলেন না মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান, সাদউদ্দিন, মাশুক মিয়া জনি, ইয়াসিন খান ও বিপলু আহমেদ।
অথচ তিন দিন আগেই অনুশীলন শুরুর কথা ছিল। কোচ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে চলে এসেও খেলোয়াড় সংকটে তা করতে পারেননি। ‘নতুন’ এই অভিজ্ঞতা নিয়ে লেমস বলেছেন, ‘এমন অভিজ্ঞতা আগে হয়নি। যেটা হলো, সেটাও একটা অভিজ্ঞতা। ছেলেরা ক্যাম্পে আসছে। আমি জানি, দুটি দিন হারালাম; এখন আমাদের আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে।’
খেলোয়াড় স্বল্পতা থাকলেও অবশেষে জাতীয় দলের অনুশীলনে নামতে পেরে খুশি মারিও লেমস, ‘এমনটা হয়। আমরা একটু দেরিতে অনুশীলন শুরু করলাম। একটা বিষয় খেলোয়াড়দের বলেছিলাম, আমি কোনও অজুহাত চাই না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু খেলোয়াড়ের ক্যাম্পে আসা নিয়ে আমরা সমস্যায় পড়লাম। যাহোক, এখন অনুশীলন শুরু করতে পেরেছি, ভালো লাগছে।’
তবে এর কারণটাও বুঝতে পারছেন লেমস। টানা খেলার মধ্যে আছেন খেলোয়াড়রা, ‘পরিস্থিতিটা বুঝতে পারছি। খেলোয়াড়দের জন্য মৌসুমটা লম্বা ছিল। মালদ্বীপ, কিরগিজস্তানে ভ্রমণের কারণে তারা কিছু সমস্যার মধ্যে ছিল। কিন্তু এখন তাদের নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত।’
মাত্র কয়েক দিনের অনুশীলনে শ্রীলঙ্কায় খেলতে যাবে বাংলাদেশ। এই অল্প সময়েই জয়ের মানসিকতা গড়ে তুলতে চাইছেন তিনি, ‘খুবই অল্প সময় পাচ্ছি। এই সময়ে যেটা করণীয়, তার সবকিছুই করার চেষ্টা করবো। শেষ যে জিনিসটা প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে দলের জয় পাওয়া। আশা করি, সেটা আমি দলকে এনে দিতে পারবো। জেতার মানসিকতা নিয়ে দলকে খেলাতে চাই। আমার মনে হয়, জাতীয় দলের এখন এটাই প্রয়োজন। ছেলেরা ভালো পারফর্ম করছে, দলে ভালো পারফর্মারও আছে।’