শ্রীলঙ্কার চার জাতি প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে দুর্বল দল সেশেলস। তাদের বিপক্ষে জিততে পারলেই এগিয়ে যেতে পারতো বাংলাদেশ। তা আর হলো কই। বরং প্রথম ম্যাচে ড্র করে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। তবে আজ মালদ্বীপের বিপক্ষে জিততে পারলে ফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে জামাল ভূঁইয়াদের সামনে।
ফিফা র্যাংঙ্কিংয়ে ৩১ ধাপ এগিয়ে থাকা দলটির বিপক্ষে তিন পয়েন্ট পাওয়াও যে বেশ কঠিন। সেই কঠিনেরে সহজ করার লক্ষ্যে আজ শনিবার (১৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ মুখোমুখি হচ্ছে মালদ্বীপের। কলম্বোর রেসকোর্স মাঠে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৪টায় মুখোমুখি হবে দক্ষিণ এশিয়ার দুটি দল।
অন্তর্বর্তীকালীন কোচ মারিও লেমসের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। সেশেলসের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ছক কষে ম্যাচ জেতা যায়নি। মালদ্বীপ শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও চেনা-জানা দল। অন্তত সাফের ম্যাচটি দেখে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে বেশ ধারণা নিতে পেরেছেন। এ ছাড়া এএফসি কাপে সেদেশের মাঝিয়া দলের হয়ে জাতীয় দলের অনেকেই খেলেছেন। আবাহনীর কোচ থাকাকালীন লেমসের মাঝিয়ার বিপক্ষে ডাগ আউটে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতাও আছে।
সেই অভিজ্ঞতার আলোকে লেমস আজ যে করেই হোক জিততে চাইছেন। শিষ্যদের সেভাবে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন। যদিও ২০০৩ সালের পর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ চারবার মুখোমুখি হয়েছে মালদ্বীপের। জিততে পারেনি একবারও। তাই মুখে যতই জয়ের কথা থাকুক, মাঠের লড়াইয়ে যে বার বারই পিছিয়ে যেতে হয়েছে।
এই মালদ্বীপ কিন্তু প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ জিততে পারেনি। ড্র করেছিল ৪-৪ গোলে। র্যাংঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা লঙ্কানরা যদি ঘুরে দাঁড়াতে পারে তাহলে বাংলাদেশ কেন পারবে না! অনুপ্রেরণা তো নেওয়াই যায়।
সেটাই মগজে গেঁথে আজ মাঠে নামছে জামাল ভুঁইয়ারা। লেমস তো সংবাদ সম্মেলনে বলেই দিয়েছেন, আরও একটি ইতিহাস গড়তে হলে তাদের ম্যাচ জিততে হবে। তাই জয়ের ক্ষুধাটাও থাকবে কিছুটা আগ্রাসী। তবে এর জন্য সব বিভাগে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। ঢিলেঢালা ফুটবল খেললে হিতে-বিপরীত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।
জামাল-তপুরা হয়তো কোচের কথা বুঝতে পারছেন। তাই নিজেদের ভুল-ত্রুটিগুলো শুধরে সেরাটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মিলেছে।
বিপরীতে মালদ্বীপও কিন্তু তেতে আছে। আগের ম্যাচে ৪ গোল দিয়েও ম্যাচ ড্র করতে হয়েছে। তাদেরও ফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ জিততে হবে। তাই আগ্রাসী ফুটবল খেলতে পারে তারাও।
তাদের নতুন ইতালিয়ান কোচ ফ্রান্সিসকো মরিয়েরো তো বলেই দিয়েছেন, ‘ফুটবলে কোনও অজুহাত দেওয়া চলবে না। জেতার জন্য খেলতে হবে। ভুল করা চলবে না। তা না হলে ম্যাচ ড্র হতে পারে।’