ডিয়েগো আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানির অধীনে ২০০৫ সালে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্স-আপ হয়েছিল বাংলাদেশ দল। আর ২০০৭ সালে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ক্লাব আবাহনী লিমিটেডের হাল ধরেছিলেন এই আর্জেন্টাইন কোচ। যদিও দল সাফল্য পাওয়ার আগে দেশে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে। ১৪ বছর পর সেই আবাহনীর বিপক্ষেই ডাগ আউটে দাঁড়াতে যাচ্ছেন ৫৫ বছর বয়সী কোচ। সাইফ স্পোর্টিংয়ের কোচ হয়ে স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে নামার আগে নস্টালজিক হয়ে পড়েছেন ক্রুসিয়ানি!
আবাহনীর কোচ হওয়াটা তার জন্য অন্যরকম স্মৃতি হয়ে আছে। সেই সময় জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড় আকাশি-নীল জার্সিতে থাকায় কোচিং করানোটা ক্রুসিয়ানির জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছিল। এবার ঢাকায় এসে মৌসুমের প্রথম প্রতিযোগিতায় তৃতীয় ম্যাচেই কিনা সেই আবাহনীই প্রতিপক্ষ।
স্মৃতিকাতর আর্জেন্টাইন কোচ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আবাহনীর বিপক্ষে এতো দ্রুত ডাগ আউটে থাকতে হবে, চিন্তা করিনি। অথচ এই ক্লাবে একসময় কোচিং করিয়েছি। আবাহনী ক্লাবে ভালো বন্ধু আছে আমার। আসলে এটাই জীবন। একেক সময় একেক জায়গায় কাজ করতে হবে। এটা চিন্তা করেই অনেকটা নস্টালজিক হয়ে পড়েছি।’
সেমিফাইনালে আবাহনীকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন ক্রুসিয়ানির, ‘তখনকার অনেক স্মৃতিই আমার মনে আছে। ক্লাবটির জন্য বিশেষ ফিলিংস আছে এখনও। তখন আমি কোচ ছিলাম। এখন আমি তাদের বিপেক্ষে মাঠে নামতে যাছি। এখন কিছু করার নেই। কোচিং জীবনে এটা হতেই পারে। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী জিততে পারবো।’
১৪ বছর আগে আবাহনী দেশের অন্যতম সেরা ক্লাব ছিল। এখনও তা-ই আছে। ঢাকায় এসে ক্লাবের আগের অবস্থান দেখে ক্রুসিয়ানি খুশি হয়েছেন, ‘আবাহনী আগে যেমন ছিল এখনও তা-ই আছে। দেখে ভালো লাগছে। তারা জায়ান্ট ক্লাব হিসেবে আছে। তারা সবসময় এমনই থাকে। এটা ভালো দিক।’
আবাহনীতে কোচিং করানোর সময় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানের বিপক্ষে জয়ের স্মৃতি এখনও টাটকা ক্রুসিয়ানির মনে, ‘প্রিমিয়ার লিগে তখন মোহামেডানের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছিলাম আমরা। আবাহনীর হয়ে গোল করেছিল জয় (আরিফ খান জয়)। সেই ম্যাচ ভুলি কী করে। আসলে আবাহনী সবসময় আমার হৃদয়ে থাকবে। তবে এখন আমি সাইফের কোচ। তাই সব চিন্তা সাইফকে ঘিরেই।’