বসুন্ধরা কিংসের ক্ষুরধার আক্রমণের সামনে পারলো না শেখ জামাল। এমনিতে শক্ত প্রতিপক্ষ, তার ওপর দুই লালকার্ডে নতজানু হয়ে গেছে তারা। ফেরনান্দেসের জোড়া লক্ষ্যভেদে ৪-০ গোলে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে অস্কার ব্রুজনের দল। রবিবার (১২ ডিসেম্বর) কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে বাকি দুটি গোল করেন মতিন মিয়া ও আলমগীর কবির রানা।
ম্যাচের শুরু থেকে রবিনিয়ো-ফেরনান্দেস-মতিনরা চেষ্টা করেও ডেডলক ভাঙতে পারেননি। বল নিয়ন্ত্রণে রেখে নিয়মিত আক্রমণ করে গেছেন তারা। তবে শেখ জামালের গোলকিপার সামিউল ইসলাম তেকাঠির নিচে ছিলেন দুরন্ত।
ম্যাচ শুরুর পঞ্চম মিনিটে বসুন্ধরা এগিয়ে যেতে পারতো। ফেরনান্দেস বক্সে ঢুকে জোরালো শট নিলেও গোলকিপার সামিউল প্রতিহত করেন।
শেখ জামাল রক্ষণ সামলে আক্রমণেও গেছে। ১১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে রাহবার খানের বাঁ-পায়ের জোরালো শট আনিসুর রহমান জিকো ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে না দিলে তখনই শেখ জামাল এগিয়ে যেতে পারতো। এর ৭ মিনিট পর বসুন্ধরার ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রবিনিয়োর ফ্রি-কিক গোলকিপার সামিউল ফিরিয়ে দিয়ে দলকে ম্যাচে রাখেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার স্তোয়াইন ভ্রানিসের জোরালো শট বক্সের ভেতর থেকে একজন ডিফেন্ডার প্রতিহত করেন।
তবে বিরতির পর দুর্বার হয়ে ওঠে বসুন্ধরা। শেষ পর্যন্ত শেখ জামালের কোনও প্রতিরোধই কাজে আসেনি।
৫৬ মিনিটে চিনেদু ম্যাথিউর শট খালেদ শাফিইর হাতে লাগলে পেনাল্টির আবেদন ওঠে। কিন্তু রেফারি তাতে সায় দেননি। সহকারী রেফারির কাছে কড়া মেজাজে আপত্তি জানানোর কারণে শেখ জামালের স্প্যানিশ কোচ হুয়ান মার্টিনেজকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। এর দুই মিনিট পর গোলউৎসব শুরু করে বসুন্ধরা। মতিন মিয়া ভাঙেন ডেডলক। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে জায়গা করে নিয়ে ডান পায়ের দারুণ জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই স্ট্রাইকার। বল ক্রস পিচে লেগে জড়িয়ে যায় জালে।
৭৩ মিনিটে বসুন্ধরা কিংস স্কোরলাইন ২-০ করে। ভ্রানিসের পাস থেকে জোনাথন ফেরনান্দেস বক্সের একটু বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে জাল কাঁপান। এর ৭ মিনিট পর দুই ব্রাজিলিয়ানের সমন্বয়ে এসেছে তৃতীয় গোল। রবিনিয়োর পাসে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে ফেরনান্দেস আগুয়ান গোলকিপারের ওপর দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে শেখ জামালের অধিনায়ক গাম্বিয়ার সলোমন কিং প্রতিপক্ষের ইয়াসিন আরাফাতকে লাথি মেরে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। ১০ জনের দল শেষ মুহূর্তে এসে আরও একটি গোল হজম করে। বাঁ-প্রান্ত থেকে রবিনিয়োর ক্রস গোলকিপার সামিউল ঠিকমতো প্রতিহত করতে পারেননি। ফিরতি বলে আলমগীর কবির রানা সহজেই বল জালে জড়িয়ে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
আগামী ১৪ ডিসেম্বর সেমিফাইনালে বসুন্ধরা কিংসের প্রতিপক্ষ এবারের আসরে চমক দেখানো পুলিশ এফসি।