অনেকে ভেবেছিল আমি আর খেলতে পারবো না: আবাহনী স্ট্রাইকার

ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আবাহনী লিমিটেড উড়ন্ত জয় পেয়েছে। ৬-০ গোলে বিধস্ত করেছে জায়ান্ট শেখ জামালকে। দলের বড় জয়ে দানিয়েল কলিনদ্রেস, দোরিয়েন্তন ও অগাস্তোর পাশাপাশি নাবীব নেওয়াজ জীবনের অবদান কম নয়। জোড়া গোল করে দলের উদ্ভাসিত জয়ে ভূমিকা রেখেছেন ৩১ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। অথচ গত বছর চোটে পড়ার কারণে ক্যারিয়ারই হুমকির মধ্যে পড়ে গিয়েছিল তার। অনেকেই মনে করেছিলেন, আর ফুটবলে ফিরতে পারবেন না। তবে সব বাধা পেরিয়ে জীবন পেয়েছেন নতুন জীবন!

একটু পেছনে ফিরে যাওয়া যাক। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে প্রথম ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন জীবন। ওই ম্যাচের পর অনুশীলনে লিগামেন্টে অপ্রত্যাশিত আঘাত পান। যে কারণে আর সেবার মাঠে ফেরা হয়নি। ভারতের কলকাতায় উন্নত চিকিৎসা নিয়ে বর্তমান মৌসুমে শুরু থেকে মাঠে আছেন। যদিও বদলি হিসেবে কোচ মারিও লেমসের বেশি পছন্দ জীবনকে।

জীবন সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমি যখন চোটে পড়ি। তখন অনেকেই মনে করেছিল, আমি আর খেলতে পারবো না। এই বুঝি ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেলো! কিন্তু আমি অদম্য ইচ্ছা ও কঠোর পরিশ্রম করে আবারও মাঠে ফিরে এসেছি। আমি জানতাম লিগামেন্টে আঘাত পেয়েও অনেকেই সুস্থ হয়ে খেলছে। তাহলে আমি কেন পারবো না? সেই ইচ্ছা শক্তি থেকেই ফিরেছি বলতে পারেন।’

এই মৌসুমে দুই টুর্নামেন্টে ৪ গোল জীবনের। ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ৬ গোলের ম্যাচে বদলি নেমে ঝলক দেখানো আবাহনী স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘আমার লক্ষ্য ছিল সুযোগ পেলে গোল করবো। দলকে বড় ব্যবধানে জয় এনে দেবো। সেই চেষ্টা থেকেই সফল হয়েছি। দুটি গোল পেয়েছি।’

আবাহনীতে এখন উঁচুমানের চার বিদেশি খেলছে। তাই জীবনের একাদশে নামার সুযোগ কমই হয়। দলের প্রয়োজনে শুধু স্ট্রাইকার নয়, যেকোনও পজিশনে খেলতে সিদ্ধহস্ত জীবন, ‘আমার পজিশনে ব্রাজিলিয়ান দোরিয়েন্তন খেলছে। ও খুব ভালো করছে। কলিনদ্রেস-অগাস্তোসহ অন্যরাও গোল পাচ্ছে। আসলে দলের যখন যেই সময় দরকার তখনই আমি মাঠে নামছি। সুযোগ পেলেই গোল করার চেষ্টা করছি। আর পজিশন নিয়ে কী বলবো, সব জায়গায় খেলতে পারি আমি।’

ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে ভালো করতে চাইছেন এই তারকা, ‘সামনের ম্যাচেও খেলতে পারলে গোল করার দিকে দৃষ্টি থাকবে। আশা করছি দল ফেডারেশন কাপে সাফল্য পাবে।’