ফেডারেশন কাপে এখন পর্যন্ত সফল দল আবাহনী। যাদের আছে রেকর্ড ১৮ বার ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১১ বার ট্রফি ঘরে নেওয়ারও রেকর্ড তাদের দখলে, রানার্সআপ ৭বার। তিন বছর পর আবারও এই রেকর্ড সমৃদ্ধ করার সুযোগ তাদের সামনে। ১৯তম ফাইনালে তাদের বাধা জায়ান্ট কিলার হিসেবে পরিচিত রহমতগঞ্জ। রবিবার কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বিকাল সাড়ে ৫টায় ফাইনাল ম্যাচটি মাঠে গড়াবে।
চলতি মৌসুমে আবাহনী লিমিটেডের আগ্রাসী রুপের কথা কারও অজানা নয়। স্বাধীনতা কাপ জিতে যার জানান দিয়ে রেখেছে এরই মধ্যে। এবার তাদের সামনে দ্বিতীয় ট্রফি জেতার হাতছানি। শক্তির বিচারে রহমতগঞ্জের চেয়ে অনেক এগিয়ে তারা। উঁচুমানের বিদেশিদের সঙ্গে রয়েছে মানসম্মত দেশি খেলোয়াড়। এছাড়া ডাগ আউটে রয়েছে মারিও লেমসের মতো দক্ষ ট্যাকটিশিয়ানও।
সেমিফাইনালে লেমসের ছাত্ররা যেভাবে সাইফের বিপক্ষে লড়াই করেছে, তা প্রশংসার যোগ্য। তাদের আগ্রাসী ফুটবল সবার চোখে পড়েছে। পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ট্রফি জেতা অসম্ভব কিছু নয়। তবে পুরো দলকে হাতে পাওয়াটা বেশ কঠিনই। দলের অন্যতম চালিকা শক্তি ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার দোরিয়েন্তন ও মিডফিল্ডার রাফায়েল অগাস্তোর খেলার সম্ভাবনা এখনও ৫০-৫০। চোটের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন দুই ব্রাজিলিয়ান। অথচ তাদের ছাড়া আবাহনীর একাদশ কল্পনা করা কঠিন। দোরিয়েন্তন চার গোল করে সবার ওপরে। আর অগাস্তো তো মধ্যমাঠের মারণাস্ত্র। পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমসও খুব করে চাইছেন যেন পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামতে। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্য যারা আছেন তাদের ওপরও ভরসা কম নয়।
দানিয়েল কলিনদ্রেস-মিলাদ শেখ-নাবীব নেওয়াজ জীবনরা তাই তাতিয়ে আছেন। যে করেই হোক তিন বছর পর আবারও শিরোপার স্বাদ পেতে চান তারা। তাই রহমতগঞ্জের ওয়ালি ফয়সাল-আশররোভ-ল্যানসিন তোরের জন্য রক্ষণ সামলানো বড় পরীক্ষা।
আবার রহমতগঞ্জকেও হালকা করে দেখার কিছু নেই। জায়ান্ট কিলার হিসেবে পরিচিত দলটি শিরোপা মঞ্চে এসেছে মোহামেডানকে হারিয়েই। যে কারণে পুরনো ঢাকার দলটি প্রথমবারের মতো ট্রফি জেতার সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাইছে না। দলে বড় ভরসার নাম আক্রমণভাগের দুই আফ্রিকান- নাইজেরিয়ান সানডে চিজোবা ও ঘানার ফিলিপ আযহা। দু’জনই ত্রাস সৃষ্টি করতে পারেন। দলটার এই পর্যন্তও আসা তাদের নৈপুণ্যে। একটু আলাদা করে বললে গতবার আবাহনীতে খেলা দুই ফুটবলারের জন্য এই ম্যাচটা বিশেষ! ওয়ালি কিংবা সানডে চাইবেন নতুন দলের জন্য কিছু একটা করে দেখাতে। সব মিলে আবাহনী-রহমতগঞ্জ ফাইনালটি রোমাঞ্চকর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।