‘বার বার ভাগ্য আমার সঙ্গে প্রতারণা করছে’

২০১৯ সালটা সাদ উদ্দিনের আলাদা করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবার কথা। ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই ফুটবলে গোল করেই পাদপ্রদীপের আলোয় চলে এসেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে 'শিশুতোষ' ভুলের কারণে বেশ আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছেন এই ফুটবলার।

টানা দুটি টুর্নামেন্টে শেষমুহূর্তে তার ভুলের কারণেই ফাইনালের টিকিট পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ। কোনওসময় বক্সের ভেতরে ফাউল কিংবা হ্যান্ডবলের কারণে প্রতিপক্ষ পেনাল্টি পেয়েছে। যা সর্বনাশ ডেকে আনে পরে!

একই ভুল দেখা যাচ্ছে ঘরোয়া ফুটবলেও। এই তো প্রিমিয়ার লিগে প্রথম ম্যাচেই মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে গোল আটকাতে গিয়ে ডান হাত দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছেন। যার ফল অনুমিতভাবেই লাল কার্ড! একের পর এক ভুলে সমালোচকরাও তাকে ছেড়ে কথা বলছেন না। তীরবিদ্ধ করছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে বারবারই কেন এমন ভুল?

একজন অভিজ্ঞ পেশাদার ফুটবলার কেনই বা এমন কাজ করে দলের সর্বনাশ ডেকে আনবেন। সাদ উদ্দিনের মুখোমুখি হতেই অসহায় সুর শোনা গেলো তার জবানিতে। বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘বার বারই ভাগ্য আমার সঙ্গে প্রতারণা করছে। কেন এমন হচ্ছে, নিজেও বুঝতে পারছি না। জাতীয় দলের পর ক্লাব ফুটবলেও এমনটি হলো। আসলে এমন ঘটনায় আমি নিজেও খুব বিব্রত।’

সবশেষ মোহামেডানের বিপক্ষে হাত দিয়ে বল আটকানোর চেষ্টাকে সাদ ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, ‘আমি গোললাইন থেকে হেড করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু কখন হাত উঠে যায়, বুঝতে পারিনি। আমি নিজেই পরে হতবাক হয়ে পড়ি।’

সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে সিলেটের সেই ফাইনালে টাইব্রেকারে গোল পেয়েছিলেন সাদ। এছাড়া পুরো টুর্নামেন্টে স্ট্রাইকার হিসেবেও দুর্দান্ত খেলেছিলেন। এরপরে আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তাই সময়ের সঙ্গে নিজেকে গড়ে আবাহনী লিমিটেডে টানা চার বছর খেলেছেন। সাদের তারকা হয়ে ওঠা মূলত আকাশী-নীল জার্সিতেই। তবে এখন সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রোর উল্টো পিঠও দেখতে হচ্ছে সিলেট থেকে উঠে আসা ফুটবলারকে। নেতিবাচক পারফরম্যান্স নিয়েই আলোচনা হচ্ছে বেশি। যদিও সাদ মনে করছেন, ‘দেখুন, আবাহনীতে থাকতে আমি সাবলীলভাবে খেলেছি। এই জাতীয় ভুলগুলো হয়নি বললেই চলে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কী যে হলো, বুঝতে পারছি না। মনোযোগের অভাব নাকি অন্য কিছু বোধগম্য হচ্ছে না।’

তবে এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছেন সুঠামদেহী এই  ফুটবলার। যিনি ফরোয়ার্ড জোনে খেলার পাশাপাশি রক্ষণ সামলাতেও দক্ষ, ‘কালকের এই ঘটনার পর কোচের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি চেষ্টা করছি এই অবস্থা থেকে কাটিয়ে উঠতে। আশা করছি, ভবিষ্যতে এমন ভুল আর হবে না।’

এখন নিজেকে সংশোধন করতে পারলে তা সাদের জন্যই ইতিবাচক হবে। ক্লাবের পাশাপাশি মঙ্গল বয়ে আনবে জাতীয় দলেও!