মিশরকে হারিয়ে সেনেগালের প্রথম শিরোপা

মহাদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল বলে কথা। সেখানে সাদিও মানেরা এমন কৃতিত্বই দেখালো। যার স্বাদ আগে পায়নি কখনও। আফ্রিকান নেশন্স কাপে প্রথমবার শিরোপা জিতেছে সেনেগাল। টাইব্রেকারে রেকর্ড ৭ বারের চ্যাম্পিয়ন মিশরকে হারিয়েছে ৪-২ গোলে।

দুই দলই ক্যামেরুনের ওলেম্বে স্টেডিয়ামে সাফল্য খরা মেটাতে মাঠে নেমেছিল। মিশর এই টুর্নামেন্টে সর্বশেষ শিরোপা জেতে ২০১০ সালে। আর সেনেগাল দুবার ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব দেখালেও বঞ্চিত হয়েছে প্রতিটিবার। গতবারও আলজেরিয়ার কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হয়েছে। সেই কারণে ফাইনালটা হয়েছে ফাইনালের মতোই। ভরপুর ছিল রোমাঞ্চ-উত্তেজনায়। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল সেনেগাল। তুলনায় সালাহর মিশর ছিল রক্ষণাত্মক। সাত মিনিটেই সেনেগাল পেনাল্টি থেকে গোলের সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু মানের স্পট কিক সেভ করে দলকে রক্ষা করেছেন মিশরের গোলকিপার গাবাস্কি। এই গোলকিপার অতিরিক্ত সময়েও বীরত্ব দেখিয়েছিলেন। তিনটি দারুণ সেভ করে হতাশ করেছেন সেনেগালকে। তবে নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হলে শুটআউটে আর বাধা হতে পারেননি। উইনিং স্পট কিকটা নিয়েছেন সাদিও মানে।

কোচ আলিও সিসের অধীনে বিগত ৩টি বছর আফ্রিকার শীর্ষ র‌্যাঙ্কধারী দল সেনেগাল। ২০০২ সালের ফাইনাল হেরে যাওয়া ম্যাচটার অন্যতম সদস্যও ছিলেন। মিস করেন গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি। তিন বছর আগে হেরে যাওয়া ফাইনালেও ছিলেন। এবার অবশ্য কোচের ভূমিকায়। তাই এমন মুহূর্তে আবেগ প্রবণ হয়ে পড়া তারই সাজে। সিসে বলেছেন, ‘আমি আজ ভীষণ আবেগ প্রবণ হয়ে যাচ্ছি। কারণ সেনেগালের জনগণ এই ট্রফিটির জন্য ৬০ বছর ধরে অপেক্ষা করছিল।’

সেনগাল সর্বশেষ ২০০২ ও ২০১৯ সালের ফাইনাল খেলেছিল। শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারায় শিষ্যদের প্রশংসায় ভাসালেন সেনেগাল কোচ, ‘আজকের ম্যাচে এটাই প্রমাণিত, যদি কেউ কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যাবসায় করে। তাহলে তার ইচ্ছা অবশ্যই পূরণ হবে।’