বাংলাদেশ দলের স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা এসেছেন এক মাস হলো। এরই মধ্যে বড় অ্যাসাইনমেন্টও পেয়ে গেছেন। আগামী মার্চে ফিফা প্রীতি ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হতে যাচ্ছে ৩৭ বছর বয়সী কোচের। খুব বেশি দিন না হলেও তার ওপর আস্থা রাখছে ম্যানেজমেন্ট। জাতীয় টিমস কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অন্যতম সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদের বিশ্বাস, নতুন কোচ দলকে ভালোভাবে উজ্জীবিত করতে পারবেন।
আগামী ২৪ মার্চ মালদ্বীপ ও ২৯ মার্চ সিলেটে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জাতীয় টিমস কমিটির সভা শেষে বৃহস্পতিবার কাজী নাবিল ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘মালদ্বীপে ২২ মার্চ গিয়ে ২৪ মার্চ ম্যাচ খেলা হবে। ২৯ মার্চে সিলেটে হবে অন্য ম্যাচ, প্রতিপক্ষ মঙ্গোলিয়া। প্রীতি ম্যাচ নিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছিলাম। এর মধ্যেই দুটি ম্যাচ নির্ধারিত হয়েছে।’
ফুটবলারদের ডাবল ডোজ টিকা না থাকায় এর আগে ইন্দোনেশিয়ার প্রস্তাবিত ম্যাচ খেলা যায়নি। এবার অবশ্য সেই শঙ্কা নেই। কাজী নাবিল বলেছেন, ‘৫০ জনের মধ্যে ভ্যাকসিনেশন প্রায় সবার হয়ে গেছে। কয়েকজন ছাড়া। সকলে দলে ডাক পাওয়ার জন্য তৈরি থাকবে।’
বেশি দিন না হলেও নতুন কোচ কাবরেরা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন খেলোয়াড়দের। ফলে তার কাছে ভালো ফল প্রত্যাশা করছেন এই প্রথিতযশা সংগঠক, ‘কোচ হাভিয়ের এসেছেন এক মাস হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন ভেন্যুতে গিয়ে খেলা পর্যবেক্ষণ করেছেন, বিভিন্ন ক্লাবে গেছেন। তাদের সঙ্গে মতামতও ব্যক্ত করেছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, নতুন কোচ দলকে ভালোভাবে উজ্জীবিত করতে পারবেন।’
ফিফা প্রীতি ম্যাচের পর জুনে রয়েছে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। যার ড্র হয়ে গেলো বৃহস্পতিবার। ড্রতে বাংলাদেশের জায়গা হয়েছে ‘ই’ গ্রুপে। সেখানে রয়েছে শক্তিশালী বাহরাইন, মালয়েশিয়া ও তুর্কমেনিস্তান।
সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ ৮ জুন বাহরাইন, ১১ জুন তুর্কমেনিস্তান ও ১৪ জুন মালয়েশিয়ার বিপক্ষে লড়বে। মালয়েশিয়াতে গ্রুপ পর্ব নিয়ে কাজী নাবিলের প্রত্যাশা, ‘আমার বিশ্বাস, এখানে ভালো করার সুযোগ আছে।অনেকগুলো দলের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাবো, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।’
কাবরেরার দল ঘোষণা হবে ১৩ কিংবা ১৪ মার্চ। ১৮ মার্চ লিগ পর্বের শেষ খেলার পর শুরু হবে অনুশীলন। তার পর দিনকয়েকের প্রস্তুতি নিয়েই বাংলাদেশ মালদ্বীপে যাবে। যেহেতু সবাই খেলার মধ্যে আছে, তাই লম্বা প্রস্তুতির সুযোগ নেই। কাজী নাবিল এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘কোচের কাছে ভালো কিছু প্রত্যাশা করছি। তিনি খেলা দেখছেন। তাদের ফিটনেসও ভালো পর্যায়ে আছে। ফলে যাদের নেওয়া হবে, তাদের নিয়ে লম্বা ক্যাম্পের প্রয়োজন নেই। তিন চারদিন যথেষ্ট। তখন গেমপ্ল্যানের পাশাপাশি পরিকল্পনা ও ট্যাকটিস নির্ধারণ করে মাঠে খেলানো সম্ভব।’
প্রাথমিক দলে বেশি খেলোয়াড় ডাকার ইঙ্গিত মিলেছে। কোভিডের কারণে বেশি খেলোয়াড় ডেকে পরবর্তীতে দল চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া সিলেটে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে মাঠে দর্শক ফেরানো নিয়ে আরেক প্রশ্নের উত্তরে কাজী নাবিল বলেছেন, ‘আশা করছি, দেশের কোভিড পরিস্থিতি তখন আরও ভালো হবে। বর্তমানে বিধিনিষেধ উঠে গেছে। এক মাস পর সংক্রমণের হার আরও কমে গেলে তখন অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনায় রাখবো। দর্শকদের কীভাবে স্থান দেওয়া যায় সেটি স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা করা হবে।’