২৮ বছর আগে নাইজেরিয়ার বায়েলসা শহরে পিটার ও এসথার দম্পতির ঘরে তখন আনন্দের শেষ নেই। দুজন কন্যা সন্তান জন্মের পর এই দম্পতি খুব করে চাইছিলেন তৃতীয় সন্তানটি যেন ছেলে হয়। ঈশ্বর শেষ পর্যন্ত তাদের চাওয়াই পূরণ করলেন। সৃষ্টিকর্তার অসীম কৃপায় দুই মেয়ের পর তাদের কোলজুড়ে আসে ছেলে সন্তান। পিটার-এসথার দম্পতি এতে এতই কৃতজ্ঞ হয়ে পড়েন যে ছেলের নামটিতেও সংযুক্ত করে রাখতে চাইলেন ঈশ্বরকে। আনুষ্ঠানিকভাবে পুরো নাম রেখেছেন পিটার ইবিমোবোয়ি থ্যাঙ্কগড।
এই থ্যাঙ্কগডই এখন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে রাজত্ব করে যাচ্ছেন। দুই উঁচুমানের ফরোয়ার্ড ব্রাজিলিয়ান দোরিয়েল্তন ও রবিনিয়োকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন তিনিই। একটি হ্যাটট্রিক ছাড়াও তার ঝুলিতে আছে ৭ গোল। অথচ শুরুতে কোনও আলোচনাতেই ছিলেন না তিনি। একের পর এক গোল করে এখন পাদপ্রদীপের আলোতে রয়েছেন। অবশ্য এমন আলোচনায় থাকার জন্য তার নামটিও বাড়তি নজর কেড়েছে। থ্যাঙ্কগড যার রহস্য উন্মোচন করলেন এভাবেই, ‘বুঝতে শেখার পর থেকেই মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেন আমার নাম থ্যাঙ্কগড রাখা হয়েছিল। আসলে দুই বোনের পর বাবা-মা চাইছিলেন যেন ছেলে হয়। তাই আমি জন্মানোর পরই ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে থ্যাঙ্কগড নামটি রাখা হয়েছে। মায়ের মুখে এমন উত্তরই পেয়েছি। এমন নাম নিয়ে আমি খুশিই বলতে পারেন। ঈশ্বরের কৃপাতে সবকিছু্ হচ্ছে।’
লিগে ৭ গোল করে অন্যদের ছাড়িয়ে গেছেন থ্যাঙ্কগড। সামনে বহু ম্যাচ বাকি আছে। তাই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকারের লক্ষ্য এখন বহুদূর। চাইছেন প্রতিটি ম্যাচেই গোল করতে, দলকে জেতাতে। বাংলা ট্রিবিউনকে সেই ইচ্ছার কথা শুনিয়েছেন থ্যাঙ্কগড , ‘আমি প্রতিটি ম্যাচে গোল করতে চাই। যেন দল জিততে পারে। সেই লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামি, গোলও পাচ্ছি। সামনের দিকেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই। সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে পারলে ভালো লাগবে। তবে কতগুলো গোল করতে পারবো, বলতে পারছি না।’
বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ ঠিকই টের পাচ্ছেন থ্যাঙ্কগড। ফলে অন্যদের সঙ্গে লড়াইটাও বেশ উপভোগ করছেন, ‘এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক। অন্য দলেও ভালো খেলোয়াড় আছে, ম্যাচ উইনার আছে। সবার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। তবে আমি এই লড়াইটা বেশ উপভোগ করছি। সামনে আরও এগিয়ে যেতে চাই।’
২০১৮-১৯ মৌসুমে মাগুসা টার্কগুকুর হয়ে সাইপ্রাসের লিগে ২৭ গোল করে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন এই ২৮ বছর বয়সী। তাকে ঘিরে চট্টগ্রাম আবাহনীর প্রত্যাশাও কম নয়। এমনিতে বন্দর নগরীর দলটিকে নিয়ে এবার কেউ তেমন উচ্চাশা করেনি। কিন্তু মারুফুল হকের হাতে পড়ে দলটির খোলসই বদলে যেতে শুরু করেছে।
পিটার থ্যাঙ্কগডই দলকে অনেকটা টেনে নিচ্ছেন। ফলে মারুফুল হকও তাকে নিয়ে বেশ আশাবাদী, ‘চোটের কারণে ওর শুরুটা ভালো হয়নি। এখন গোল পাচ্ছে। সামনেও ভালো করার সুযোগ আছে।’
একের পর এক গোল করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসা থাঙ্কগড এবার নিজেই ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিতে পারেন। কেননা, উঁচুমানের ফরোয়ার্ডদের ছাড়িয়ে ক্রমশ সামনের দিকে এগোচ্ছেন তিনি।