বাংলা ট্রিবিউনকে ইউক্রেনীয় ফুটবলার

‘ইউক্রেনের মানুষ রাশিয়ার চেয়েও শক্তিশালী’

ইউক্রেনে আগ্রাসন চালাচ্ছে রাশিয়া। দেশটিতে ঢুকে দখলদারিত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে নিন্দার ঝড় বইছে। রাশিয়ার মতো বৃহৎ শক্তির দেশকে রুখে দেওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফুটবল তারকা আন্দ্রে শেভচেঙ্কোর মাতৃভূমির জনগণ। কেউ দেশে থেকে, কেউবা দেশের বাইরে থেকে। তাদের একজনই ফুটবলার কাইরাইলো ইয়েভেনোভিচ সিলিচ।

ফুটবলের কারণে বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে থাকতে হয় এই মিডফিল্ডারকে। বর্তমানে লিথুনিয়াতে আছেন। সেখানে সাইলাস ক্লাবের হয়ে খেলছেন। যদিও মন পড়ে আছে তার জন্মস্থান ইউক্রেনে। রাশিয়ার আগ্রাসন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না ৩১ বছর বয়সী ফুটবলার।

ইউক্রেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ওদেশাতে জন্ম সিলিচের। রাজধানী থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরের শহরটির পর্যটনের জন্য আলাদা সুনাম আছে। সেখানে তার বাবাসহ পরিবারের অন্যরা বসবাস করেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই তার মা জার্মানিতে চলে যান। বর্তমানে তার বাবা আছেন সেখানে।

মাত্রই লিথুনিয়ার দলটির হয়ে খেলা শেষ করেছেন। তাই পুরো দৃষ্টি মাতৃভূমির দিকে। লিথুনিয়া থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘আমি লিথুনিয়াতে আছি, স্ত্রীসহ। খেলতে এসেছি। তবে এই মুহূর্তে দেশে ফেরার কোনও পরিকল্পনা নেই। আমার বাবা ইউক্রেনে আছে। তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। মা যদিও নেই সেখানে, জার্মানিতে গেছে আগেই।’

লিথুনিয়ার ক্লাব ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়াতে খেলার অভিজ্ঞতা আছে সিলিচের। ২০১৯ সালে মালদ্বীপের ইউনাইটেড ভিক্টোরিতে খেলা এই মিডফিল্ডারের সব মনোযোগ এখন মাতৃভুমির দিকে, ‘আমাদের মাতৃভূমি গভীর সংকটে পড়েছে। আমি নিয়মিত দেশে যোগাযোগ রাখছি।’

রুশ বাহিনী ইউক্রেনে ঢুকলেও সিলিচের শহরে ঢুকতে পারেনি। তবে নিজ দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন এই ফুটবলার। সবাই যে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত কিংবা করছেও, তাও অকপটে বলে দিলেন, ‘আমার শহরে এখনও ওরা যেতে পারেনি। আমাদের সবাই শত্রুর বিপক্ষে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত আছে। করছেও। আমার বাবাও প্রস্তুত আছে। যেভাবেই হোক দেশকে মুক্ত করতে হবে শত্রু থেকে।’

রাশিয়ার বৃহৎ শক্তির দেশের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে টিকে থাকাটা সহজ নয়। যুদ্ধ জেতাও কঠিন। কিন্তু ইউক্রেনের মানুষের অসীম মনোবল। সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে শত্রুকে রুখে দেওয়ার জন্য একাট্টা সবাই। সিলিচ আত্মবিশ্বাসী, ‘ওরা বড় দেশ। অনেক দিক দিয়ে এগিয়ে। কিন্তু এটা আমাদের জন্য বড় বিষয় নয়। বড় মানে এই নয় যে তারা শক্তিশালী। ইউক্রেনের মানুষের মনোবল তাদের (রাশিয়া) চেয়ে শক্তিশালী। আত্মবিশ্বাসী। এই যুদ্ধে অবশ্যই ইউক্রেন জিতবে। মানসিকতার দিক থেকে আমরা রাশিয়ার চেয়েও শক্তিশালী।’

সিলিচ ইউক্রেনে নেই। তাই দেশের জন্য সরাসরি কিছু করতে পারছেন না। তবে অন্যভাবে ঠিকই অবদান রাখছেন, ‘আমি ফুটবলের কারণে দেশের বাইরে আছি। তবে দেশের বাইরে থাকলেও দেশকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষার জন্য নানাভাবে সাহায্য করে যাচ্ছি। সাহায্য করার সুযোগ আছে।’

কীভাবে সাহায্য করছেন, এমন প্রশ্নে এই মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘অন্যতম উপায় হলো... ধরুন অস্ত্র দিয়ে। আমি দেশের বাইরে থাকলেও সাহায্য করা খুব সম্ভব। সবকিছুই সম্ভব বলে আমি মনে করি। আমাদের দেশের সঙ্গে পোল্যান্ডসহ অন্যদের সঙ্গে সীমান্ত আছে...।’

এর বেশি কিছু আর বলতে চাইলেন না সিলিচ। থেমে গেলেন। হয়তো নিজেরা কী করতে যাচ্ছেন বা করছেন, তা বিস্তারিত সবাইকে জানতে চাইছেন না!