সিলেটের মাঠ আবারও রাঙাতে চান বাংলাদেশের এই ফুটবলার

এই শহরে তার বেড়ে ওঠা। ফুটবলের হাতেখড়িও এখানে। বলতে গেলে সিলেটের নাড়ি-নক্ষত্র বিপলু আহমেদের ভালো করেই চেনা। সেই চিরচেনা পরিবেশে চার বছর পর আবারও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ এসেছে। তাই ফিফা প্রীতি ম্যাচে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে লড়াই করতে তর সইছে না বিপলুর!

অবশ্য জাতীয় দলের এই তারকার এমন ব্যাকুলতার কারণও আছে। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামটি বিশেষ কারণে মনে আলাদা স্থান করে আছে বিপলুর। ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই মাঠেই লাওসের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি পেয়েছিলেন। তার করা সেই গোলে জিতে বাংলাদেশ সেমিফাইনালও নিশ্চিত করেছিল।

চার বছর পর আবারও ২২ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের সামনে ঝলক দেখানোর সুযোগ। তাই বিপলু চাইছেন, যে করেই হোক ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখতে, ‘সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে প্রথম গোলের দেখা পেয়েছিলাম। সেই দিনটি এখনও বেশ মনে পড়ে। এবারও লক্ষ্য দলকে জেতানো। গোল করতে পারলে ভালো লাগবে। তবে দল জিততে পারলেই আমি খুশি।’
হাভিয়ের কাবরেরার দলে বিপলু ছাড়াও আছেন সিলেটের আরেক সন্তান মাশুক মিয়া জনি। প্রীতি ম্যাচে তাদের বাবা-মা ছাড়া আত্মীয়-স্বজনও গ্যালারিতে বসে খেলা দেখবেন। যা অবশ্যই বাড়তি প্রেরণার। বিপলুও বলছিলেন, ‘আমার তথা দলের খেলা দেখার জন্য বাসা থেকে প্রায় সবাই আসবে। বন্ধু-বান্ধব তো থাকবেই। তাদের উপস্থিতিতে নিজের চেনা মাঠে ভালো খেলতে অনুপ্রেরণা পাবো।’

মালদ্বীপের কাছে ফিফা প্রীতি ম্যাচে তাদের মাঠে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। এবার অন্তত মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে জিতে সেই ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার লক্ষ্য জামাল ভূঁইয়াদের। যদিও সিলেটে আসার আগে লাওসের কাছে মঙ্গোলিয়াও ১-০ গোলে হেরেছে। বিপলু তাই সতর্ক থাকার কথাই বলেছেন, ‘ওরা লাওসের কাছে ম্যাচ হেরেছে। তবে আমরা সতর্ক হয়ে খেলবো। কোনও ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। জয়ের মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামবো।’

জাতীয় দলের হয়ে তিন গোল করা বিপলু আহমেদের পারফরম্যান্স মাঝে-মধ্যে ওঠানামা করে। যে কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেসহ বিভিন্ন সময়ে কটু কথাও শুনতে হয়েছে। এমন মুহূর্তে কষ্টটা ঠিকই লাগে বিপলুর। তার কথায়, ‘আমরা কেউ তো ইচ্ছে করে ম্যাচ হারি না। কিংবা গোলের সুযোগ নষ্ট করি না। দেখা যায় এসব নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিষোদগার করা হয়। যা দেখলে অনেক কষ্ট লাগে। আমরা তো মাঠে খেলে থাকি। দল হারলে সবার আগে আমাদেরই সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগে।’

জাতীয় দলে বিপলুর ভালো-মন্দ দুই অভিজ্ঞতাই আছে। তবে এবার নিজের মাঠে ইতিবাচক অভিজ্ঞতাটাই অর্জন করতে চাইছেন। এই লক্ষ্য সামনে রেখে মাঠে নামার অপেক্ষায় এই তরুণসহ সতীর্থরা।