গতকালকের রাতটা স্মরণীয় হয়ে থাকবার কথা লিভারপুলের। এক দশক পর এফএ কাপের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ক্লাবটি। কোথায় ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-২ গোলে হারানো ম্যাচটা নিয়ে আলোচনা চলবে। সেটি না হয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় চাপা পড়ে গেছে সব।
কয়েক দিন আগে ছিল হিলসবোরো ট্র্যাজেডির ৩৩তম বার্ষিকী। ১৯৮৯ সালে এই এফএ কাপের সেমিফাইনালেই ফুটবল ইতিহাসের বিয়োগান্তক এক ঘটনা ঘটেছিল। নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে ওই দিনের ম্যাচে পদদলিত হয়ে নিহত হন ৯৭ জন লিভারপুল সমর্থক। স্বাভাবিকভাবে লিভারপুলের কাছে দিনটি বেদনার। তাই ওয়েম্বলিতে শনিবারের ম্যাচের আগে এক মিনিটের নীরবতা পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই সময় অনাকাঙ্ক্ষিত কাণ্ড করে বসেন ম্যানচেস্টার সিটির কিছু সমর্থক। নীরবতা পালনের সময় দুয়ো দিতে থাকেন তারা। কিন্তু এই আচরণ ক্ষোভ তৈরি করেছে লিভারপুলের মাঝে।
ম্যানসিটির এক মুখপাত্রও বলেছেন, নিজেদের সমর্থকদের কাণ্ডে তারা ভীষণ হতাশ, ‘এই ঘটনায় আমরা ভীষণভাবে হতাশ হয়েছি। নীরবতা পালনের সময় তাদের দুয়ো দেওয়ার ঘটনায় আমরা লিভারপুলের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।’
পরিস্থিতি এমন ছিল, পুরো এক মিনিট আর নীরবতা পালন করা যায়নি। বাধ্য হয়ে রেফারি মাইকেল অলিভার আগেভাগে শ্রদ্ধাঞ্জলির ইতি ঘটিয়েছেন।
ম্যাচের পর ম্যানসিটি কোচ পেপ গার্দিওলাও হতাশার সুরে বলেছেন, ‘এটা ম্যানচেস্টার সিটি নয়। এই বিয়োগান্তক ঘটনায় আমরা লিভারপুলের সমব্যথী ছিলাম সবসময়। কিন্তু দুয়োর ঘটনাটি আমাদের প্রতিনিধিত্ব করে না।’
দুঃখ প্রকাশ করে লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ বলেছেন, ‘ম্যানসিটি এমন, বিষয়টা আমরা সেভাবে ভাবিনি। কারণ, কিছু লোক যারা পরিস্থিতি বুঝতে ব্যর্থ, তারাই এমন কাজ করেছে। অবশ্যই বিষয়টা ভালো দেখায়নি। এমন মুহূর্তে এই কাজটা পুরোপুরি ভুল ছিল। তবে ঘটনায় সিটিকে দোষ দেওয়া যাবে না। আমরা সেটা এভাবেই গ্রহণ করেছি।’
সেমিফাইনালের ম্যাচটায় প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় লিভারপুল। ৯ মিনিটে শুরুর গোল করেছেন ইব্রাহিম কোনাতে। ১৭ ও ৪৫ মিনিটে জোড়া গোল ছিল সাদিও মানের।
পরে দুই গোলে ব্যবধান কমায় ম্যানসিটি। ৪৭ মিনিটে একটি গোল করেন জ্যাক গ্রিয়েলিশ ও যোগ করা সময়ে বের্নার্দো সিলভা।