এটিকে মোহনবাগানের বড় শক্তি বিদেশি সংগ্রহে। স্থানীয়দের পাশাপাশি রয় কৃষ্ণা-উইলিয়ামরাও দারুণ খেলে যাচ্ছেন। এই তো এএফসি কাপের প্রিলিমিনারি রাউন্ডে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টারকে ৫ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে তাদেরই অবদান। বিদেশিরা তিন গোল দিয়েছেন। আর স্থানীয়দের পা থেকে এসেছে দুটি। এছাড়া ফর্মেও আছেন প্রায় সবাই। তাই এএফসি কাপে দলটির স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশিদের নিয়েও আলাদা করে ভাবতে হচ্ছে আবাহনীর তরুণ কোচ মারিও লেমসকে।
আইএসএলে খেলা মোহনবাগানের এই দলে সবচেয়ে সফল বিদেশি স্ট্রাইকার রয় কৃষ্ণা। ৩৪ বছর বয়সী ফিজির এই স্ট্রাইকার ২০২০ সালে যোগ দিয়ে ৩৯ ম্যাচে ২১ গোল করেছেন। যদিও আগামী মৌসুমে তার দলে থাকাটা অনিশ্চিত। সবশেষ ম্যাচে ব্লু স্টারের বিপক্ষেও খেলেননি। তবে আবাহনীর বিপক্ষে তিনি মাঠে নামলে, বাদশা-মিলাদ শেখদের জন্য তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
এএফসি কাপে আবাহনীর প্লে-অফের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড উইলিয়ামের কথাও বলতে হয়। ২০২০ সালে এটিকে মোহনবাগানে যোগ দিয়ে ৩৭ ম্যাচে ১০ গোল করেছেন এই ফরোয়ার্ড। ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড অস্ট্রেলিয়ার হয়েও খেলেছেন দুই ম্যাচ। আরেক খেলোয়াড় ৩১ বছর বয়সী ফিনল্যান্ড জাতীয় দলের জনি কোয়াকু ২৮ ম্যাচে পেয়েছেন এক গোল। ২০২১ সালে মোহনবাগানে যোগ দিয়ে ৬ ফুট দুই ইঞ্চি উচ্চতার এই মিডফিল্ডার বলের জোগানটা ভালোই দিয়ে যাচ্ছেন।
২৬ বছর বয়সী ফ্রেঞ্চ ম্যান হুগো ভামোসও কম আতঙ্কজনক নন। খেলছেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে। ২০২১ সালে যোগ দিয়ে ২১ ম্যাচে আছে ৫ গোল। আর প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দিতে রক্ষণে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার তিরিতো রয়েছেনই। বর্তমান দলে ৩৮ ম্যাচ খেলেছেন ৩০ বছর বয়সী দীর্ঘদেহী এই ডিফেন্ডার।
বিদেশিদের পাশাপাশি আর যাদের নাম না বললেই নয়। গোয়ার ছেলে ২৩ বছর বয়সী লিস্টন কোলাসো। ফরোয়ার্ড বা উইঙ্গার হিসেবে খেলছেন ২০২১ সাল থেকে। ২২ ম্যাচে করেছেন ৮ গোল।
পাঞ্জাবের ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড মানভির সিংহ তো ব্লু স্টারের বিপক্ষে দুই গোল দিয়ে নিজেকে আবারও চিনিয়েছেন। মোহনবাগানের হয়ে সব মিলিয়ে ৪৫ ম্যাচে ১২ গোল আছে তার। খেলছেন ২০২০ সাল থেকে। বাঙালি কিয়ান নাসিরির কথাও বাদ দেওয়া যাচ্ছে না, ফরোয়ার্ড বা উইংয়ে খেলে থাকেন। ২১ বছর বয়সে ১৩ ম্যাচে করেছেন ৩ গোল।
তাছাড়া যোগ্যতার দিক দিয়ে প্রীতম বা কোলাসোও কেউ কারও চেয়ে কম নন। তাই আবাহনীকে বেশ হিসাব করেই ছক কষতে হবে। কলকাতায় গিয়ে মারিও লেমস এরইমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘মোহনবাগান দলটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। তাদের বিপক্ষে জোরদার লড়াই হবে। দলটিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশিদের মানও বেশ ভালো। এখন আমাদের সেভাবে মার্কিং করে খেলতে হবে। যেন ওরা সুযোগ না পায়।’
এখন কোচের কৌশলে টুটুল হোসেন বাদশা-মিলাদ শেখরা সফল হলেই হয়।