সিলেটে ভয়াবহ বন্যা: মন কাঁদছে সাদ-বিপলু-জনিদের

সিলেট-সুনামগঞ্জের মানুষ এখন সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন। পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকা পানিতে নিমজ্জিত। বন্যার তোড়ে ভেসে গেছে অনেক কিছু। মানবেতর জীবনযাপন করছেন সেখানকার মানুষেরা। তাদের দুঃসময়ে মন কাঁদছে সাদ-বিপলু-জনিদের।

বর্তমান জাতীয় দলে সিলেটের বেশ কয়েকজন ফুটবলার রয়েছেন। সিলেটের বিভিন্ন জায়গা থেকে উঠে এসে লাল-সবুজ দলে প্রতিনিধিত্ব করছেন তারা। এই যেমন সাদ উদ্দিন। যদিও দক্ষিণ সুরমার পশ্চিমবাগের অধিবাসী সাদের এলাকাতে পানি এখনও ওঠেনি।

তবে আশপাশের অনেক জায়গা প্লাবিত। নিজ জেলার এমন দুর্দশা দেখে শেখ রাসেলের ডিফেন্ডার ব্যথিত। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের এলাকাতে এখনও পানি ওঠেনি। অনেক আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে উঠেছে। আল্লাহ যেন আমাদের সিলেটবাসীকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করেন। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

মাশুক মিয়া জনি ও মাহবুবুর রহমান সুফিল আবার শ্রীমঙ্গলের বাসিন্দা। এই দিক দিয়ে তারা সৌভাগ্যবান। তাদের এলাকা উঁচুতে থাকায় সেখানে বন্যায় পানি ঢোকেনি।

মিডফিল্ডার জনি বলেছেন, ‘আমার ওখানে পানি ওঠেনি। তবে সিলেটের বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত। আমাদের আত্মীয়-স্বজন আছে। তারা বেশ খারাপ অবস্থায় আছে। তাদের জন্য চিন্তা হচ্ছে। দ্রুত যেন এই অবস্থার থেকে উত্তরণ ঘটে।’

জাতীয় দলের আরেক মিডফিল্ডার বিপলু আহমেদ চর্মচোখে দেখে এসেছেন বন্যার তীব্রতা। ঢাকায় ক্লাবের অনুশীলনে যোগ দেওয়ার আগে তা দেখে বেশ মন কাঁদছে বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলার, ‘এখনও আমাদের এলাকা শহরের বনকলা পাড়ায় পানি ওঠেনি। আশপাশে পানি উঠছে। দেখতে গিয়েছিলাম। অবস্থা বেশ খারাপ। যা বলে বোঝাতে পারবো না। দেখে অনেক খারাপ লাগছে। কারও কারও শুধু ঘরের টিন দেখা যায়।’

বন্যার্তদের পাশে এসে দাঁড়ানোর কথাও উচ্চারিত হলো তার কণ্ঠে, ‘তাদের জন্য কিছু করা যায় কিনা দেখছি। তাদের পাশে সবাই মিলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবো। যতটুকু পারা যায়।’

সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ। জেলার প্রায় সব অঞ্চলই ডুবে আছে। সেখানকার জগন্নাথপুরে বাড়ি ১৯৯৯ সাফ গেমস ফুটবলে ভারতের বিপক্ষে গোল করা সাবেক স্ট্রাইকার শাহাজউদ্দিন টিপুর। যদিও তিনি থাকেন সিলেটের টিলাগড়ের গোলাপবাগে।

দুই জায়গাই বন্যার পানিতে ডুবে আছে। টিপু শুনিয়েছেন দুঃখ-দুর্দশার কথা, ‘সিলেটে আমাদের বাসা সবচেয়ে উঁচু জায়গায়, তারপরেও এখন আমাদের গেইটে কোমড়পানি। পরিস্থিতি ভালো না। সুনামগঞ্জ আমার বাড়ি জগন্নাথপুর অলরেডি পানির নিচে। সেখানে ভাই-বোনসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন আছে। সেখানকার অবস্থা বলে বোঝানো যাবে না। দোয়া করবেন। পরিস্থিতি ভয়াবহ।’

এই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন সিলেট-সুনামগঞ্জের মানুষ। আশায় আছেন দ্রুত পানি নামবে, ফিরবে স্বাভাবিক পরিবেশ।