তিন বছর আগে বাংলাদেশের প্রথম ফিফা নারী রেফারি হয়েছিলেন জয়া চাকমা। কোভিডের কারণে এরপর ফিফা প্রীতি ম্যাচ কিংবা আন্তর্জাতিক ম্যাচে (মূল জাতীয় দলের ম্যাচে) রেফারিং করার সুযোগ হয়নি। এবার প্রত্যাশিত সুযোগটি এসেই গেলো। প্রথমবারের মতো ফিফা প্রীতি ম্যাচ পরিচালনা করতে যাচ্ছেন রাঙামাটির মেয়ে জয়া। অর্থাৎ বড়দের ম্যাচে তার অভিষেক হতে যাচ্ছে!
আগামী ২৩ ও ২৬ জুন মালয়েশিয়া নারী দলের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ নারী দল। সাবিনাদের প্রথম ম্যাচে রেফারি থাকছেন জয়া। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বাঁশি বাজাবেন ২৯ বছর বয়সী সাবেক এই ফুটবলার।
সাধারণত ফিফা প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক দেশের কোনও রেফারি থাকার নিয়ম নেই। এবার ফিফার কাছে বাফুফে থেকে স্থানীয় ৬ রেফারির তালিকা দিতেই সম্মতি মিলে যায়। তবে এতে প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়ারও সায় মিলেছে।
বাফুফের হেড অব রেফারি আজাদ রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘ফিফা আমাদের স্থানীয় রেফারিদের দিয়ে ম্যাচ পরিচালনা করার সুযোগ দিয়েছে। তবে এটাই শেষ। ভবিষ্যতে আর সুযোগ থাকবে না। আমরা জয়া চাকমাকে সুযোগ দিচ্ছি। ও প্রথমবারের মতো ফিফা প্রীতি ম্যাচে বাঁশি বাজাবে।’
এতদিন ঘরোয়া প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করে আসছিলেন জয়া। এবার বড়দের ফুটবলে বাঁশি বাজানোর সুযোগ পেয়ে যারপরনাই খুশি তিনি। অপেক্ষায় ছিলেন কখন ডাক আসবে, ‘এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে ছিলাম। ২০১৯ সালে প্রথম ফিফা রেফারি হই। এরপর থেকে অপেক্ষায় ছিলাম কখন দুই জাতীয় দল তথা ফিফা প্রীতি ম্যাচে বাঁশি বাজাতে পারবো। অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এসেছে। আমি আসলে খুব রোমাঞ্চিত।’
এই ম্যাচ পরিচালনার জন্য জয়া ভারতের বেনারস থেকে ছুটি নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। সেখানে ফিজিকাল এডুকেশনের ওপর মাস্টার্স করছেন। জয়া নিজেদের মাঠে রেফারিং করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন, ‘এটা আমার জন্য বড় দায়িত্ব। একে তো স্বাগতিক বাংলাদেশ, তার ওপর নিজেদের মাঠে খেলা। সেখানে আমাকে বাঁশি বাজাতে হবে। তাই দায়িত্বটা একটু বেশি। ঠিকঠাক বাঁশি বাজানোই এখন বড় লক্ষ্য।’
প্রথম ম্যাচে রেফারিদের কাজের মূল্যায়ন হবে। মূল্যায়নের পর ২৬ জুন ম্যাচে কে বাঁশি বাজাবেন, তা নির্ধারণ হবে।