মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের আশা বাংলাদেশের

২০১৭ সালের মালয়েশিয়ার কথা ভাবলে শক্তিশালী একটা দলের প্রতিচ্ছবিই ফুটে উঠবে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশের মেয়েরাও যে উন্নতি করেছে, তার সর্বশেষ প্রমাণ দেখা গেছে কয়েক দিন আগেই। প্রথম ম্যাচে অতিথি মালয়েশিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছে ৬-০ গোলে!

অথচ ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অতিথিরা ৬১ ধাপ এগিয়ে! কিন্তু মাঠের খেলায় অন্য এক বাংলাদেশের দেখা মিলেছে। কাল রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচেও একই মূর্তি ধরে খেলতে চাইছে স্বাগতিক দল।

দলের অভিজ্ঞ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনও ম্যাচ নিয়ে দারুণ আশাবাদী। একই পরিকল্পনা ধরে জয়ের প্রত্যাশা করছেন আবার, ‘মেয়েদের কাছে বার্তা থাকবে, যেহেতু আমরা তাদের বিপক্ষে একটা ম্যাচ খেলেছি। আমাদের সম্পর্কে তারা পুরো ধারণাটাই পেয়েছে। এ ম্যাচেও সর্বশক্তি প্রযোগ করবো, পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলবো। আগেও বলেছি ভালো খেলবো, দর্শকদের আনন্দ দেবো। ইনশাআল্লাহ জয় নিয়ে ফিরবো।’

আগের ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতলেও ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে আলোচনা চলমান ছিল। হয়েছে কাটাছেঁড়াও। বাংলাদেশের কোচ বলেছেন, ‘প্রথম ম্যাচের পরই ছোট মিটিং করেছিলাম। ওই সময় ম্যাচের খুঁটিনাটি নিয়ে কথা হয়েছে। প্রথম ম্যাচে ভালো দিকগুলো বেশি ছিল। তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। মোটামুটি ভালো-মন্দ সব দিক নিয়েই আলোচনা হয়েছে। মেয়েরাও সেটা বুঝেছে।’

রবিবার ম্যাচের আগে দলে কিছুটা চোট রয়েছে। স্বপ্নার কাফ মাসলে সমস্যা আছে। এছাড়া তহুরার ব্যাকপেইন। ম্যাচের আগ পর্যন্ত তাদের সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

দলের যা শক্তি তা দিয়ে রবিবার কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছে বাংলাদেশ। কোচের বার্তা পরিষ্কার, ‘আমাদের বয়সভিত্তিক দলগুলো যেভাবে খেলে, জাতীয় দলও সেভাবেই খেলবে। আমরা উপভোগ্য এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চাই। যেহেতু প্রথম ম্যাচ জিতেছি, পরের ম্যাচ জেতার জন্য মেয়েরা সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে।’

কোচের মতো অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও আত্মবিশ্বাসী। দেখাতে চাইছেন ভালো পারফরম্যান্স। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘কাল আমাদের টার্গেট থাকবে বিনোদন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষকে ভালো খেলা উপহার দেওয়া। দর্শক ভালো খেলা দেখার আশা নিয়েই আসে। চেষ্টা থাকবে তারা যেন খুশি হয়ে বাড়ি ফিরতে পারে।’

সাবিনা প্রথম ম্যাচে একটি গোল করেছেন। অন্য গোলগুলোতে রেখেছেন অবদান। তাতেই আনন্দ খুঁজে নিচ্ছেন সাবিনা, ‘জাতীয় দলের বড় সাফল্য ঘরের মাঠে হলে বাংলাদেশের জন্য তা বড় পাওয়া। আমার এখন গোল করার চেয়ে গোল করাতেও অনেক ভালো লাগে। যখন আমাদের ছোটরা গোল করে, সেটা দেখতে ভালো লাগে। গোল করা অবশ্যই বেশি আনন্দের, তবে গোল করাতেও একই অনুভূতি আছে। আমরা আশাবাদী সিরিজ জিততে পারবো।’