সেই কাঠমান্ডুতেই বাংলাদেশের অদম্য মেয়েদের ইতিহাস

কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে লড়াই করা সবসময় কঠিন। বাংলাদেশের হয়ে যারা আগে খেলেছেন, তাদের মুখ থেকেই কথাটা শোনা। তবে কঠিন কাজটিই এবার সহজে করে দেখিয়েছে বাংলার মেয়েরা। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবারের মতো ট্রফি জিতে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে তারা। আজ (সোমবার) স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার আনন্দে মেতেছে সাবিনা-কৃষ্ণারা।

বাংলাদেশের ফুটবলে সাফল্য হাতে গোনা। ছেলেদের ফুটবলে সাফ গেমসে (বর্তমানে এসএ গেমস) দুটি সোনা জয়, মিয়ানমারে চার জাতি ট্রফি ও ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা- এই হলো মোটা দাগে পাওয়া সাফল্য। এবার মেয়েদের ফুটবলের অগ্রযাত্রার এলো আরেকটি সোনালি দিন।

প্রায় দেড় যুগ আগে শুরু হওয়া বাংলাদেশের নারী ফুটবল একটু একটু করে এগিয়ে এখন চারদিকে ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে। কাঠমান্ডুর আকাশে সেটি ডানা মেলে উৎসবের রেনু ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিলো। নেপালের এই ভেন্যুটি বাংলাদেশের জন্য এখন বেশ পয়মন্ত বলা যায়। ইতিহাসের পাতায় আলাদা করে লেখাও থাকবে। ছেলেরা ১৯৯৯ সালে সাফ গেমসে (এসএ গেমস) স্বাগতিক নেপালকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সোনার পদক জিতেছিল। আলফাজ আহমেদের গোলে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্দ করে এসেছিল পদক। এবার মেয়েরা ২৩ বছর পর লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়েছে সেখানেই।

মেয়েদের ফুটবলে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে সাফল্য এলেও জাতীয় দল সেভাবে কোনও কিছু করে দেখাতে পারেনি। এবার কাঠমান্ডুর আসরে সবার দৃষ্টি ছিল। আশা ছিল, কিছু একটা করে দেখাবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচ থেকে নকআউট- সবক’টিতেই লাল-সবুজ দল আধিপত্য দেখিয়েছে। অপরাজিত থেকে হয়েছে চ্যাম্পিয়ন!

বাংলাদেশ সব বিভাগে দেখিয়েছে মুন্সিয়ানা। পরিপক্কতা। গোল হজম করে হতোদ্যম হয়নি। সব বাধা পেরিয়ে মাঠের লড়াইয়ে হয়েছে সফল। গ্রুপে যখন পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ, তখনই আঁচ করা গিয়েছিল বহুদূর যাবে সাবিনা খাতুনরা। সেমিফাইনালে ভুটানকে ৮ গোলে হারানোর পর ফাইনাল নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। কারণ প্রতিপক্ষ স্বাগতিক নেপাল।

কিন্তু দশরথ স্টেডিয়ামে বৃষ্টিসিক্ত মাঠে সব আশঙ্কা উড়িয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছে। গ্যালারিতে থাকা স্বাগতিকদের প্রায় ১৫ হাজার দর্শককে স্তব্দ করে দিয়েছে। বললে ভুল হবে না কঠিন পরিশ্রমের ফসল ঘরে তুলেছে বাংলাদেশ।

এই মেয়েরা অনেক দিন ধরেই একসঙ্গে খেলছে। বাফুফে ভবনে থেকে তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম বৃথা যায়নি। অভিজ্ঞতা দিয়ে খেলে সাফের শিরোপা ঘরে তুলেছে। যাদের সামনে ভারত-নেপাল-ভুটান টিকে থাকে থাকতে পারেনি। এ যেন আকাঙ্ক্ষিত এক ট্রফি জয়। সে কারণেই কাঠমান্ডুর আকাশে-বাতাসে বাংলাদেশের জয়োধ্বনি। যার রেশ এসে পড়েছে  বাংলাদেশেও।

১৯৯৯ সালের পর ২০২২, সাফল্যের মঞ্চটা থাকলো একই। সেই কাঠমান্ডুতেই উড়লো আবার বাংলাদেশের বিজয় কেতন!