নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ, জামালদের প্রেরণা এখন সাবিনারা

কম্বোডিয়াকে তাদের মাঠে এক গোলে হারিয়ে জয়ের রেকর্ড অক্ষুণ্ন রেখেছে বাংলাদেশ। ফিফা প্রীতি ম্যাচে সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে এবার নেপালের মুখোমুখি হচ্ছে জামাল ভূঁইয়ারা। সাবিনাদের সাফ জয়ের মঞ্চ কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামেই এখন নেপাল জয়ের মিশন জামাল ভূঁইয়াদের। মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৬টার এই ম্যাচকে ঘিরে মিলছে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি।

হাভিয়ের কাবরেরার অধীনে চলতি বছর এটাই শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হতে যাচ্ছে। তাই কম্বোডিয়ায় প্রথম জয়ের পর কাঠমান্ডুতেও জয়ে রাঙাতে চাইছেন ৩৭ বছর বয়সী কোচ। দিন কয়েক ধরে কাবরেরার সেই চাওয়া বাস্তবায়নে জামালরা নেপালে নিজেদের তৈরি করছে। তাই তো কাবরেরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারছেন, ‘২২ দিনের লম্বা ট্রেনিং এবং কম্বোডিয়া ম্যাচ শেষ করে এখানে এসেছি। অবশ্যই কম্বোডিয়ার বিপক্ষে জয় আমাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে। এখানে রিকোভারির দিকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। আবহাওয়াও অনুকূল। ছেলেরা মঙ্গলবারের ম্যাচ জেতার জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করেছে।’

র‌্যাঙ্কিং বিবেচনায় নিলে হিমালয়ের দেশটি বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। অবস্থান ১৭৬তম। আর বাংলাদেশের অবস্থান ১৯২। তবে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের রেকর্ড দেখলে লাল-সবুজ দলের জয়ের পাল্লাই ভারি। ২৩ বারের মুখোমুখিতে ১৩ বার জিতেছে বাংলাদেশ দল। ড্র হয়েছে তিনবার। বিপরীতে হেরেছে সাতটি। সবশেষ ২০২১ অক্টোবরে সাফের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। কাবরেরার সামনে পরিসংখ্যান তুলে ধরতেই বললেন, ‘সবশেষ দুই দল যখন সাফে মুখোমুখি হয়েছিল, আমি কোচের দায়িত্বে ছিলাম না। আঁটসাঁট ম্যাচ হয়েছিল। নেপাল-বাংলাদেশ ম্যাচ ফিফটি-ফিফটি হয়। দিনশেষে যারা প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি নিখুঁত হবে, গোল করার ক্ষেত্রে আরও বেশি কার্যকরী হবে, তারাই জিতবে। আমিও মনে করি নেপাল আমাদের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলবে এবং আমরাও প্রস্তুত।’

কোচের মতো অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও আত্মবিশ্বাসী। তবে প্রতিপক্ষকে সমীহ দেখিয়ে বলেছেন, ‘আমরা প্রায় একমাস সঙ্গে রয়েছি। কম্বোডিয়ার বিপক্ষে জিতেছি। নেপাল ম্যাচ নিয়ে কোচ উল্লেখ করেছেন, ছেলেদের মধ্যে ভরপুর আত্মবিশ্বাস আছে। আমরা মঙ্গলবারের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত। এটাও জানি, নেপালের নিজেদের মাঠ। এ কারণে স্বাগতিকদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। তবে আগামীকাল আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলতে চাই। বলের জন্য লড়াই করতে চাই।’

নেপালে ম্যাচ মানে মাঠে গ্যালারিভর্তি দর্শক। প্রতিকূল পরিবেশে মেয়েরা দিন কয়েক আগে ঠিক একই স্টেডিয়ামে সাফ জিতেছে। সেটাকে প্রেরণার উৎস হিসেবে ধরে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, ‘এর আগেও এখানে কিছু ম্যাচ খেলেছি। নেপালের খুব ভালো হোম ক্রাউড আছে। অবশ্যই তারা নেপালের খেলোয়াড়দের সাহায্যে আসবে। কিন্তু কয়েক দিন আগে এ মাঠেই আমাদের মেয়েরা ইতিহাস গড়েছে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে। আমরাও তার পুনরাবৃত্তি করতে চাই, জিততে চাই।’