রাশিয়ার কাছে প্রত্যাশিতভাবে ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ইউরোপের দেশটির বিপক্ষে সেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। তিন গোলে ম্যাচ জিতে রাশিয়ার খেলোয়াড়রাও ভীষণ উচ্ছ্বসিত। মাঠেই দেখা গেলো তাদের অন্যরকমভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে। যেমন তৃতীয় গোলের পর কোমর দুলিয়ে নেচেছেন তারা! তবে ম্যাচ হারলেও প্রতিপক্ষের কোচের মুখ থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ।
প্রথমার্ধে দুই গোল পায় রাশিয়া। বিরতির পর আরও একটি যোগ করে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকেই ছিটকে দিয়েছে। তাতে প্রথমবার বাংলাদেশে খেলতে এসে অভিষেকেই জয় পেয়েছে ইউরোপের প্রতিনিধিরা। কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ম্যাচ জিতে রাশিয়ার কোচ এলেনা মেদভেদ দোভাষীর মাধ্যমে জানালেন, ‘আমাদের জন্য এই মাঠ যথেষ্ট ভালো নয়। আমাদের দেশে টার্ফে খেলি, কিন্তু সেগুলো এমন নয়। তবে বাংলাদেশের খেলায় আমি মুগ্ধ। তারা যেভাবে চেষ্টা করেছে, বিশেষ করে রাইট মিডফিল্ডার (প্রীতি) যেভাবে ছোটাছুটি করেছে আমাদের পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া জন্য, তার খেলা আমার ভালো লেগেছে।’
বাংলাদেশের আবহাওয়াতে খেলতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে রাশিয়াকে। কোচ বললেন, ‘আমাদেরও কিছু পরিকল্পনা ছিল, যার সবগুলো প্রয়োগ করতে পারিনি। জিতেছি তাতেই খুশি। আরও বেশি গোল হতে পারতো। ট্যাকটিক্যাল এবং টেকনিক্যাল প্রস্তুতিতে ভিন্নতা ছিল, বাংলাদেশ কোচ দুই দিকেই তার মতো করে ছক কষেছিল। এখানকার আবহাওয়া আমাদের জন্য কঠিন। আপনারও দেখেছেন, ম্যাচের পর মেয়েরা মাঠে লুটিয়ে পড়েছিল। কেবল আবহাওয়া নয়, সময়ের পার্থক্যও আমাদের জন্য কঠিন ছিল।’
বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন ম্যাচ হেরে ভীষণ হতাশ। তবে রাশিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেলে যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়েছে তাতেই খুশি তিনি, ‘আমরা প্রথম কোনও ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে খেললাম। ওরা শারীরিক ও টেকনিক্যাল দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে। এটাই আজকের খেলাতে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। শুরুটা বাজে ছিল, আস্তে আস্তে ওরা উন্নতি করেছে। এই ম্যাচ হারলেও আমাদের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। যদি এই দলটিকে ৫ বছর ক্যাম্পে রাখতে পারতাম, তাহলে আরও লড়াই করার সুযোগ ছিল।’