অফিসে মিথ্যা বলে মেসিদের খেলা দেখতে গিয়ে চাকরি হারালেন তরুণী

গত ডিসেম্বরে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো আর্জেন্টিনা। তারা দেশে ফেরার পর ছাদখোলা বাসে বরণ করে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা প্রথম ম্যাচ খেললো বৃহস্পতিবার। তিন তারকাখচিত জার্সিতে তাদের খেলা দেখতে টিকিটের জন্য ১৫ লাখ আবেদন পড়েছিল অনলাইনে। শেষ পর্যন্ত ৮৩ হাজার আসনবিশিষ্ট মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে যারা ঢুকতে পেরেছিল, তারা এককথায় সৌভাগ্যবান। তাদেরই একজন হুইলে বারবিয়েরি। স্প্যানিশ গণমাধ্যম ক্লারিন-এর প্রতিবেদন, মেসিদের খেলা দেখার জন্য ২১ বছরের এই তরুণী অফিসে ভুয়া অসুস্থতার কাগজ দেন। অফিসে মিথ্যা বলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের খেলা দেখার খেসারত অবশ্য তাকে দিতে হয়েছে চাকরি হারিয়ে।

সান্তা ফে শহরের ফুনেস পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত ইভা পেরোন হেলথ সেন্টারে কাজ করেন বারবিয়েরি। বৃহস্পতিবার তিনি কাজে যাননি। কিন্তু সাড়ে তিনটার দিকে টিওয়াইসি স্পোর্টস মোবাইলের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। আলবিসেলেস্তেদের খেলা খেতে আসা ভক্তদের নিয়ে একটি আয়োজন ছিল এই গণমাধ্যমের। তারা দর্শকদের কাছে জানতে চান, মাঠে থাকার জন্য ‘আপনি কী ফেলে এসেছেন?’। বারবিয়েরি রাখঢাক না রেখে উত্তর দেন, ‘দ্য লাবুরো’, স্প্যানিশ এই শব্দের বাংলা দাঁড়ায় ‘কাজ’।

সঞ্চালক বিস্মিত হয়ে আরেকবার প্রশ্ন করেন এবং জানতে চান সেটা কি ওই দিনের জন্য নাকি চিরতরে?  ওই তরুণী এতটাই উত্তেজিত ছিলেন যে ক্যামেরার সামনে তিনি হাসতে হাসতে তার বসকে শুভকামনা জানিয়ে বলেন, ‘আমি রোলিকে (সান্তাক্রোসে) শুভেচ্ছা পাঠিয়েছি, আমার বস, কেন্দ্রের। টিভিতে হয়তো তিনি আমাকে দেখছেন। একটি মেডিক্যাল সার্টিফিকেট তার কাছে গেছে, কিন্তু আমি ভালো আছি। আমার ডায়রিয়া হয়েছিল, কিন্তু সেটা সেরে গেছে।’ রোলি সান্তাক্রোসে শুধু তার প্রধানই নন, ফুনেসের মেয়র।

ছোট্ট সাক্ষাৎকারে বারবিয়েরি বলেন, ‘মনুমেন্টালে জাদুকরীভাবে আমি আমার বন্ধুর সঙ্গে চলে এসেছি। রোলি, আমি সত্যি করে বলছি সারা বছর ধরে দ্বিগুণ কাজ করবো, কিন্তু বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দটা আমাকে উদযাপন করতে দিন।’ সাংবাদিক তার কাছে জানতে চান, ছাঁটাইয়ের টেলিগ্রাম এলে কী করবেন? ওই তরুণী বলেন, ‘সেটা কাল দেখা যাবে, আজ আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।’

পরের দিন সত্যিই তাকে বরখাস্ত করার টেলিগ্রাম পৌঁছে গেছে। সান্তাক্রোসে শুক্রবার ‘তোদোস এন লা ওচো’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘যুক্তিসঙ্গতভাবে সে আমাদের পৌরসভায় আর কাজ করতে পারছে না, যে ঘটনা দেখলাম তাতে এই সিদ্ধান্ত দ্রুত নিয়েছি। হ্যাঁ, এটা অনেক কষ্ট দিচ্ছে। সে আমার ব্যক্তিগত সচিবের বোন, ছোট একটা মেয়ে, যে খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছিল এবং মহামারির সময়ও করেছে। আমার প্রশাসনের মেয়াদে সে এসেছিল। এই প্রজন্মকে আসলে বোঝা বড় দায়। এটা আমাকে কষ্ট দিচ্ছে কারণ সে এমন এক মেয়ে, যে প্রশংসনীয়। কিন্তু সে গুরুতর ভুল করেছে এবং মাঝেমধ্যে ভুলের মাশুল দিতে হয়।’

সত্যিই যে চাকরি হারাতে হবে সেটা বোঝেননি বারবিয়েরি। পরে ইনস্টাগ্রামে তিনি বক্তব্য দেন, ‘আমি প্রকাশ্যে ফুনেসের মেয়রের কাছে ক্ষমা চাইছি। ক্যামেরার সামনে আমি মজা করেছিলাম কিন্তু বুঝতে পারিনি এর প্রভাব এতটা বড় হবে।’ লা ক্যাপিটালের এক ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে জানা গেছে, একজন সহকর্মীর সঙ্গে কাজের দিন বদল করে খেলা দেখার অনুমতি পেয়েছিলেন ওই তরুণী। তিনি বলেন, ‘আমি এই বিতর্ক তৈরি করতে চাইনি। আমি জানি আজকাল চাকরি পাওয়া কতটা কঠিন।’