‘দেশের জন্য খেলবো, এতেই আনন্দ হচ্ছে’ 

তিন বছর আগে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা ফুটবল দিয়ে পাদপ্রদীপের আলোতে আসেন রুমা আক্তার। নৈপুণ্য দেখিয়ে বাফুফে নারী ফুটবল একাডেমিতে সুযোগ করে নেন। এই বছর সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড উঠেছে তার হাতে।ধারাবাহিকতায় থেকে এই দলটি যাচ্ছে সিঙ্গাপুরে। এই দলটির একজন ছাড়া বাকি সবারই প্রথমবার বিদেশে গিয়ে ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ঈদের সময় ক্যাম্পে থেকে যেতে হবে সিঙ্গাপুরে। বাবা-মাকে ছাড়াই ঈদ করতে হবে জেনেও দুঃখ নেই স্বয়ং অধিনায়কের।

২৩ এপ্রিল রাতে সিঙ্গাপুরে রওনা হবে দল। এর আগ পর্যন্ত পুরো দল থাকবে বাফুফের ভবনে। অনুশীলনে নেই কোনও বিরতি। সংবাদ সম্মেলন শেষে এক ফাঁকে রুমা তাই বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘ঈদে ক্যাম্পে থাকবো। ক্যাম্প থেকে সরাসরি এই প্রথম দেশের বাইরে যাচ্ছি। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে আমাদের বাড়ি। আব্বু-আম্মুর কষ্ট হচ্ছে, তাদেরকে ছাড়া প্রথমবারের মতো ঈদ করবো। তবে সমস্যা দেখছি না। এখানে স্যার-ম্যাডাম আছেন, তাদের সঙ্গে ঈদ করবো।’

ruma foot1

দেশের হয়ে খেলতে হচ্ছে। লাল-সবুজ পতাকা জড়িয়ে খেলার অপেক্ষায় থাকা দলটির সবাই মুখিয়ে আছে ইতিবাচক ফল করার জন্য। রুমা বলেছেন, ‘পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে না পারবো না, কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। আবার দেশের হয়ে খেলবো, এতে আনন্দও হচ্ছে। দেশের জন্য ভালো ফল করতে পারলে তখন অনেক ভালো লাগবে।’

‘ডি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর ও তুর্কমেনিস্তান। রুমার লক্ষ্য গ্রুপসেরা হয়ে পরবর্তী পর্বে জায়গা করে নেওয়া, ‘আমরা নিয়মিত কঠোর অনুশীলন করছি। আমরা সিঙ্গাপুরে দুই ম্যাচেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে চাই। দুই দলকেই শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে নিয়েছি। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

জাতীয় নারী দলে এক জোড়া সহকারী কোচ দম্পতি রয়েছেন। তবে এই প্রথম সহকারী কোচ মাহবুবুর রহমান লিটু দলের সঙ্গে যাচ্ছেন না। তবে স্ত্রী অনন্য রহমান যাচ্ছেন। এএফসির বাধ্যবাধকতা থাকায় লিটু যেতে পারছে না। অনন্যা অবশ্য বলেছেন, ‘ও ঢাকাতেই থাকবে। এছাড়া দুই বাচ্চাকে রেখে যাচ্ছি। তবে কষ্ট হলেও দেশের জন্য ভালো ফল নিয়ে আসতে পারলে ভালো লাগবে। এটাই আমার কাজ।’