নেপলসে তখন আতশবাজির ঝলকানি। চারদিক আনন্দের বাধ ভেঙে গেছে। ডিয়েগো ম্যারাডোনা বেঁচে থাকলে নিশ্চিতভাবে সেই আনন্দের মিছিলে শামিল হতেন। সঙ্গ দিতেন প্রিয় ক্লাবকে। কারণ নাপোলি প্রায় তিন যুগে প্রথমবার ইতালির চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
ম্যারাডোনার হাত ধরে ১৯৮৭ সালে প্রথম সিরি আ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল নাপোলি, তিন বছর পর আবারও। ১৯৯০ সালে আর্জেন্টাইন গ্রেটের স্বর্ণালী সময়ে দ্বিতীয় ও শেষবার এই ট্রফি জিতেছিল তারা। ৩৩ বছর কেটে গেছে, বৃহস্পতিবার আবারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেলো নেপলসের ফুটবল ক্লাব।
উদিনেসের মাঠে ১-১ গোলের ড্রয়ে ক্লাব ইতিহাসের তৃতীয় স্কুদেত্তো অর্জন করলো নাপোলি। একটি ড্রই যথেষ্ট ছিল শিরোপা জয়ের জন্য। পাঁচ ম্যাচ হাতে রেখে ১৬ পয়েন্টের লিড তাদের। সিরি আর শীর্ষ গোলদাতা ভিক্টর ওসিমহেন ৫২তম মিনিটে সমতাসূচক গোল করতেই বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে নেপলস। উদিনের স্টেডিয়ামেও ছিল উৎসবের ঢেউ।
আরও আগেই শিরোপা উৎসব করতে পারতো নাপোলি। সালেরনিতানায় আগের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে ড্র করায় আরও চার দিন অপেক্ষা করা হয়েছিল তাদের। দরকার ছিল একটি পয়েন্ট, সেটাই আদায় করে চ্যাম্পিয়নশিপ জিতলো দল।
২০২০ সালের নভেম্বরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ম্যারাডোনা। তার সম্মানে ক্লাবের স্টেডিয়ামের নামকরণ হয় ডিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা। শেষ বাঁশি বাজতেই রঙিন আতশবাজিতে চারদিক আলোকিত হয়ে ওঠে।
নাপোলি কোচ লুসিয়ানো স্পালেত্তি বললেন, এই সাফল্যে ম্যারাডোনার প্রভাব অনুভূত হয়েছিল। তিনি যোগ করেন, ‘নাপোলি, এটা তোমার জন্য। এখানে অনেকে আছে যারা তাদের জীবনের কঠিন মূহূর্ত পার করেছে। এই আনন্দের সবটুকু তাদের প্রাপ্য।’
ইতালির উত্তরে অবস্থিত উদিনে স্টেডিয়ামের ভেতরে ছিলেন ১১ হাজার ভক্ত, বাইরে আরও ৫ হাজার। নেপলসে ৫০ হাজারের বেশি দর্শক স্টেডিয়ামের বাইরে বিশাল স্ক্রিনে দেখেছেন ম্যাচ। খেলা শেষ হতেই খুশির জোয়ার নেমে আসে শহরে। ক্লাবের প্রেসিডেন্ট অরেলিও ডি লরেন্তিস নেপলস স্টেডিয়ামের বাইরে দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা আমাকে সবসময় বলেছেন, আমরা জিততে চাই এবং আমরা জিতলাম। আমরা সবাই একসঙ্গে এটা জিতেছি।’
লরেন্তিস ২০০৪ সালে যখন ক্লাবের দায়িত্ব নেন, তখন নাপোলিকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়েছিল। তৃতীয় বিভাগে তাদের শুরু। তিনি বললেন, ‘৩৩ বছর ধরে দেখা স্বপ্ন পূরণ। এটা লম্বা প্রক্রিয়া।’
২০০১ সালে রোমার পর মিলান ও তুরিন শহরের বাইরে ইতালির দক্ষিণের কোনও ক্লাব প্রথমবার শিরোপা জিতলো। পাঁচ ম্যাচ হাতে রেখে ট্রফি জেতার রেকর্ডে তুরিনো (১৯৪৭-৪৮), ফিওরেন্তিনা (১৯৫৫-৫৬), ইন্টার মিলান (২০০৬-০৭) ও জুভেন্টাসের (২০১৮-১৯) পাশে নাম লিখলো নাপোলি।