এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করেছেন এই সময়ের আলোচিত তরুণ ফুটবলার শেখ মোরসালিন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলার জন্য দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সেভাবে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ হয়নি। এ নিয়ে মোরসালিনের মন খারাপ হলেও অতি সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিদ্ধান্তে ভাগ্য খুলে গেছে তার। এবার কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আবারও খেলোয়াড়ি কোটায় মেধাবী জাতীয় খেলোয়াড়দের ভর্তির সুযোগ করে দেওয়া হবে। তাই সুযোগটা কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মোরসালিন।
বুধবার থেকে ভর্তিচ্ছু খেলোয়াড়দের আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যদিও প্রথম দিনে মোরসালিন আবেদন করতে পারেননি। দিন কয়েকের মধ্যে আবেদন করার কথা জানিয়েছেন।
বিকেএসপি থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসিতে জিপিএ ৪.৪৪ ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। এবার জাতীয় দলে দারুণ পারফরম্যান্সের পর উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাবিতে খেলোয়াড় কোটায় ভর্তির পথও সুগম হয়েছে।
ফরিদপুর থেকে ওঠে আসা এই ফুটবলার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘দেশের হয়ে খেলার জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিকমতো ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারিনি। অথচ আমার স্বপ্ন বড় ফুটবলার হওয়ার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। সাফ খেলে এসে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলোয়াড় কোটায় ভর্তির সুযোগের কথা জানতে পেরেছি। কোচ জাকারিয়া বাবু ও বিকেএসপির এক বড় ভাই আমাকে অনেক সাহায্য করছেন। আপাতত প্রিমিয়ার লিগের খেলা রয়েছে। তাই হয়তো খেলা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করবো।’
জাতীয় দলে পাঁচ ম্যাচে দুই গোল করেছেন মোরসালিন। বক্সের বাইরে থেকে তার জোরালো শটে গোল করা সবাইকে মুগ্ধ করেছে। এছাড়া তার ফুটবলীয় গুণ দেখে সবাই খুব আশাবাদী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক শাহজাহান আলীও মনে করছেন মোরসালিনের মতো খেলোয়াড়দের ভর্তি হওয়া উচিত, ‘আগে খেলোয়াড় কোটায় ভর্তি হওয়া যেত। মাঝে অনেক বছর বন্ধ ছিল। এবার নতুন করে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মোরসালিন জাতীয় দলে ভালো করছে, পড়াশোনাতেও ভালো। সব নিয়ম মেনে ও যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে, সবার জন্য ভালো হবে। খেলার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারলে অন্যরাও উৎসাহিত হবে। কারণ, খেলার পাশাপাশি পড়াশোনাটাও দরকার।’