বেশ কিছু দিন ধরেই জাতীয় দলে বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী লিমিটেড খেলোয়াড়দের প্রাধান্য। তবে লাল-সবুজ দল গড়তে কিংসের খেলোয়াড়দেরই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সামনে কাছাকাছি সময়ে জাতীয় দল ছাড়াও এশিয়ান গেমস ও এএফসি কাপের খেলা রয়েছে। আরও আছে অনূর্ধ্ব-২৩-এর ম্যাচ। ফলে চীনের হাংজুতে এশিয়াডে ব্যতিক্রমী কিছু দেখা যেতে পারে। সেখানে থাকছে না কিংসের কোনও খেলোয়াড়ই। তাই আসন্ন ইভেন্টটি নতুনদের মেলে ধরার সুযোগ।
এশিয়ান গেমসে গতবার বাংলাদেশ দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছিল। এবার সেই পারফরম্যান্স ধরে রাখাটা বড় চ্যালেঞ্জই। এশিয়াড দলে অভিজ্ঞ বলতে জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, রবিউল হাসান, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, ঈসা ফয়সাল ও জাফর ইকবালের নাম আসবে। বড় পরীক্ষার মঞ্চে নতুন হিসেবে আসতে পারেন মেহেদী হাসান শ্রাবন, হাসান মুরাদ, মিতুল মার্মা, শাহিন হোসেন ও তানভীর আহমেদরা। হাভিয়ের কাবরেরার অধীনে লাল-সবুজ জার্সি গায়ে একাদশে খেলার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে। নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে তখন মূল দলের দরজাও খুলে যাবে।
জাতীয় দলের সহকারী কোচ হাসান আল মামুন দল গঠন করতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছেন বাংলা ট্রিবিউনের কাছে। মানসম্মত খেলোয়াড়ের অভাব যে প্রকট তা আবারও বললেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার, ‘আমি ও হাভিয়ের টোটাল স্কাউটিং করে যা পেয়েছি, এখন এমন সময় এসেছে যে কিছু পজিশনে যথেষ্ট সেন্টারব্যাক কিংবা গোলকিপার নেই। আপনারা তো শুধু ফরোয়ার্ড পজিশন নিয়েই বলছেন। দল গঠন করতে গিয়ে গলদঘর্ম হতে হয়েছে।’
তবে যাদের পেয়েছেন তাদের মধ্যে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন মামুন। বিশেষ করে গোলকিপার শ্রাবন, ডিফেন্ডার হাসান মুরাদ কিংবা ফরোয়ার্ড নোভাদের সামনে বড় সুযোগ নিজেদের মেলে ধরার। মামুন বলছিলেন, ‘এর মধ্যে যারা দলে জায়গা পেয়েছে তারা ভালো। হয়তো বড় তারকা নয়, কিন্তু তারকা হওয়ার যোগ্যতা তাদের আছে। এই যেমন হাসান মুরাদের ভালো সামর্থ্য আছে। সব দিক দিয়ে আমরা এমন খেলোয়াড় পছন্দ করছি, যারা অন্য পজিশনে খেলতে পারে। এই যেমন সেন্টারব্যাক কিংবা মিডফিল্ডার।’
এএফসি কাপ না হলে কিংসের ইয়াসিন আরাফাত, শেখ মোরসালিন, আনিসুর রহমান জিকোদের দেখা যেতো দলে। তারপরেও দলে যারা আছেন তাদের প্রতি আস্থা রেখে মামুন বলেছেন, ‘এই সময়টা জটিল। একে তো বড় আকারে মানসম্মত খেলোয়াড় নেই। খেলাগুলো পড়ে গেছে একই সঙ্গে। এখন আলাদা করে খেলা হওয়াতে সবার সামনে সুযোগ আসছে। হয়তো শুধু একটি খেলা একসময় হলে নতুনদের সুযোগ সেভাবে আসতো না। এরা কখনও জায়গা পেতোই না। আমরা আসলে ভারসাম্য করার জন্য কাজ করছি।’