দুইবার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে এসে মোহনবাগান সুপারজায়ান্টসকে জিততে দেয়নি বসুন্ধরা কিংস। এএফসি কাপে দুই ব্রাজিলিয়ানের লক্ষ্যভেদে বসুন্ধরা ২-২ গোলে ড্র করেছে ভারতের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে।
ভুবনেশ্বরের মাঠে মঙ্গলবার মোহনবাগানের সঙ্গে প্রায় সমান তালে লড়াই করার চেষ্টা করেছে বসুন্ধরা।
ম্যাচ ঘড়ির ১১ মিনিটে বসুন্ধরার বিশ্বনাথ ঘোষের ক্রস দামাশেনোর কাছে পৌঁছানোর আগেই গ্লাভসে নেন স্বাগতিক গোলরক্ষক বিশাল কাইথ।
রক্ষণ সামলে রেখে খেলা বাংলাদেশি ক্লাব পনেরো মিনিটের পর মোহনবাগানকে কিছুটা চাপে রাখে। কিন্তু দামাশেনোর গোলমুখে ফেলা ক্রস, রবিনিয়োর লক্ষ্যহীন কর্নার পারেনি কাইথের পরীক্ষা নিতে।
২৮ মিনিটে বসুন্ধরার প্রতিরোধের দেয়ালে ধরে চিড়। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা হুগো বোমোস অনেকটা এগিয়ে বক্সে বল বাড়ান। তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় কাট ব্যাক করেন জ্যাসন কামিন্স। নিখুঁত শটে বাকি কাজ সারেন দিমিত্রি পেট্রাটস।
বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নরা পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি। ৩৩ মিনিটে রবিনিয়োর থ্রু পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গায়ের সঙ্গে লেগে থাকা হেক্টর ক্যান্টেনের প্রতিরোধ ভেঙে দারুণ শটে সমতা ফেরান ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার দোরিয়েলতন।
দুই মিনিট পরই এগিয়ে যেতে পারতো বসুন্ধরা। কিন্তু বক্সের একটু বাইরে থেকে রবিনিয়ো জায়গা করে নিয়ে জোরালো শট নেন। বল বাঁক খেয়ে লাফিয়ে ওঠা মোহনবাগান গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে ক্রসবার কাঁপিয়ে ফেরে।
বিরতির পর কালো জার্সির বদলে লাল জার্সি পরে মাঠে নামে বসুন্ধরা। ৪৮ মিনিটে মিগেলের থ্রু পাস থেকে দোরিয়েল্তন বক্সে ঢুকে গোলকিপারকে একা পেয়ে কোনাকুনি শট পোস্টে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন।
তবে ৫৪ মিনিটে মোহনবাগান আবারও এগিয়ে যায়। দিমিত্রিয়ো পেট্রাটসের পাসে আশিষ রায় ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে বল পেয়ে গোলকিপারের ওপর দিয়ে সহজেই জাল কাঁপান।
৬৯ মিনিটে অস্কার ব্রুজনের দল সমতায় ফেরে। রবিনিয়োকে ফেলে দেন আশিষ। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি দেন। স্পট কিক থেকে জোরালো শটে দলকে ২-২ এ সমতায় ফেরান রবিনিয়ো নিজেই। গোলকিপার বলের লাইনে ঝাঁপালেও গতির কাছে হার মানতে হয়েছে।
তিন ম্যাচ শেষে গ্রুপে ভারতের মোহনবাগান ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব বসুন্ধরা চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। মালদ্বীপের মাজিয়া এবং ভারতের আরেক ক্লাব উড়িষা এফসির পয়েন্ট সমান তিন। তিন দলই আরও তিনটি ম্যাচ খেলবে। ছয় ম্যাচ শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল পরবর্তী রাউন্ডে উত্তীর্ণ হবে।