অস্ট্রেলিয়া প্রতিপক্ষ হিসেবে কেমন তা ভালোই জানা বাংলাদেশের কোচ হাভিয়ের কাবরেরার। অসম প্রতিপক্ষ সামনে চলে আসায় এখন তাদের আটকানো নিয়েই বেশি ভাবতে হচ্ছে স্প্যানিশ কোচকে। পরিসংখ্যান- শক্তির দিক দেখে অস্ট্রেলিয়াকে একবাক্যে শক্তিশালী মানছেন কাবরেরা। তাদের বিপক্ষে মাঠে লড়াই করার মানসিকতা নিয়েই শিষ্যদের নামতে বলেছেন, যেন লড়াকু পারফরম্যান্স সবার চোখে পড়ে।
২০২৬ বিশ্বকাপের এশিয়া অঞ্চলের বাছাইয়ের ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচে বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হবে দুই দল। মেলবোর্নোর রেক্টাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় (স্থানীয় সময় রাত ৮টা) মাঠে গড়াবে ম্যাচটি।
২০১৫ সালের পর এই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। সেবার ২০১৮ বিশ্বকাপের বাছাইয়ে দুই লেগে ৯ গোল হজম করেছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াতে ৫-০ এবং ঢাকায় ৪-০ ব্যবধানে হারে তারা।
বিশ্বকাপে খেলা সকারুদের বিপক্ষে বারবার খেলার সুযোগ আসে না। ৮ বছর পর এমন সুযোগ পেয়ে দারুণ এক পারফরম্যান্স আশা করছেন কাবরেরা।
বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে কাবরেরা বলেছেন, ‘আমরা চার-পাঁচদিন ধরে এখানে আছি। তিনটি সেশন করেছি এ পর্যন্ত। এখন দলের সবকিছু ইতিবাচক আছে। এখানকার আবহাওয়াটাও আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। আমরা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। এশিয়ার অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে খেলতে এখানে এসেছি। আমি আশাবাদী এবং ইতিবাচক। আশা করছি, এখান থেকে ভাল অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে পারবো; যা আমাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ লেবাননের বিপক্ষে কাজে লাগাবে।’
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ১৮৩তম; শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়া ২৭তম। তাই গ্রাহাম আর্নল্ডের দলকে যতটা সম্ভব কঠিন পরীক্ষায় ফেলার লক্ষ্য কাবরেরার। সেটা করতে হলে জামাল-মোরসালিন-মিতুলদের লড়াকু মানসিকতা নিয়ে খেলার আহবান তার, ‘আমাদের লড়াকু হতে হবে। নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে হবে। আমরা জানি এটা কেমন চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। আমরা জানি, অস্ট্রেলিয়া কেমন শক্তিশালী, বিশেষ করে ঘরের মাঠে।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ফুটবলে একটু একটু করে উন্নতি করেছে। কাবরেরা তা তুলে ধরে বলেছেন, ‘গেলো কয়েক বছর আমরা উন্নতি করেছি, বিশেষ করে গত বছর। মহাদেশের কয়েকটি দলের সঙ্গে আমরা লড়াই করেছি। আশা করছি, এ ম্যাচেও আমরা নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে পারবো। নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার কাজটা যতটা সম্ভব কঠিন করতে চাই।’
অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণভাগে জেমি ম্যাকলারেন, মার্টিন বয়লে, মিচেল ডিউকের মতো নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় রয়েছেন। তাদের আটকে রাখতে মাঝমাঠ থেকে শুরু করে রক্ষণভাগের দায়িত্ব কম নয়। কিন্তু কার্ডের কারণে এ ম্যাচে মিডফিল্ডার মোহাম্মদ সোহেল রানাকে পাচ্ছেন না কাবরেরা। কোচ অবশ্য এ নিয়ে তেমন চিন্তিত নন, ‘সোহেল রানা অবশ্যই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার ছিল। সে দলের অন্যতম শক্তিশালী ফুটবলারও, কিন্তু তার বিকল্প আমাদের হাতে রয়েছে। আমাদের হাতে একাধিক তরুণ খেলোয়াড় রয়েছে, যারা নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করে দলে জায়গা করে নিতে চায়।’
অস্ট্রেলিয়া স্কিলের পাশাপাশি শারীরিক দিক দিয়েও এগিয়ে। কাবরেরার দুর্ভাবনার জায়গা আছে আরও, মেলবোর্নের ঠান্ডা ও সেটপিস। কাবরেরা যে করেই হোক সকারুদের আটকাতে চান, ‘সেটপিস নিয়ে নিয়মিত কোচিং স্টাফদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রতিপক্ষ দলের শারীরিক শক্তি অবশ্যই আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আমরা চেষ্টা করবো নিজেদের অর্ধে তাদের ফ্রিকিক ও কর্নার না দিতে।’