ফুটবল দিয়ে ক্রিকেটার বাবার স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশ দলে কাজেম

বাবা সৈয়দ হালিম শাহ ছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেটে আলোচিত নাম। ঘরোয়া ক্রিকেটে শীর্ষ পর্যায়ে খেললেও লাল-সবুজ দলের জার্সি গায়ে চড়ানো হয়নি। সর্বোচ্চ ‘এ’ দল পর্যন্ত খেলেছেন। তাই এক ধরনের অতৃপ্তি নিয়েই ২০০৫ সালে কানাডায় থিতু হন। তবে সেসময় ৭ বছর বয়সী ছেলে সৈয়দ শাহ কাজেম কিরমানির মাঝে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। চেয়েছিলেন যেন ছেলে তাকে ছাড়িয়ে একসময় বড় ক্রিকেটার হয়। দেশের হয়ে খেলে সুনাম অর্জন করে। বাবার স্বপ্ন কাজেম এই সময়ে এসে অনেকটাই পূরণ করতে পেরেছেন- তবে ক্রিকেট নয়, জাতীয় ফুটবলে দলে প্রথমবারের মতো প্রাথমিক দলে সুযোগ পেয়ে!

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে দুটি ম্যাচের জন্য বাংলাদেশের প্রাথমিক দলে কোচ হাভিয়ের কাবরেরা কাজেমকে দলভুক্ত করেছেন। ছেলের লাল-সবুজ দলে জায়গা পাওয়া দেখে হালিম শাহ কিন্তু দারুণ খুশি। যদিও বাবার মতো ক্রিকেট নয়, ফুটবলকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাচ্ছেন কাজেম।

হয়তো কাজেমের ক্রিকেটার হওয়ার সুযোগ ছিল। ঢাকায় থাকতে ক্রিকেট নিয়েই বেশি মেতে ছিলেন। কিন্তু হালিম শাহ ক্যারিয়ার শেষ করে কানাডায় থিতু হতে গিয়ে সেখানে ক্রিকেটের কোনও ছোঁয়া দেখতে পাননি! বরং টরন্টোতে ফুটবলই ছিল প্রথম দর্শন। কাজেমও তাই চর্মগোলকেই নিজেকে সপে দিয়ে আস্তে আস্তে পুরোদমে খেলোয়াড় বনে গেলেন! স্কুল,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলে বড় স্বপ্ন নিয়ে একসময় নাড়ির টানে ২০২১ সালে ঢাকায় ফিরে সাইফ স্পোর্টিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করতে চেয়েছিলেন। 

কিন্তু তখন খেলা হয়নি পাসপোর্টসহ অন্য জটিলতায়। তবে পরের মৌসুমে পুলিশ এফসির হয়ে খেলা শুরু করতে সমস্যা হয়নি। এবার তো পুলিশ এফসিতে দ্বিতীয় মৌসুমের মাঝামাঝি পর্যায়ে খেলে সবার দৃষ্টি কেড়েছেন। মধ্যমাঠ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা তাকে অন্যদের চেয়ে করেছে আলাদা। এবার লিগে খেলা আট ম্যাচের সাতটিতেই সুযোগ পান শুরুর একাদশে। ফেডারেশন কাপে শেখ জামালের বিপক্ষে গোলও করেছেন। এছাড়া অ্যাসিস্টও আছে ২৫ বছর বয়সী মিডফিল্ডারের। এরই মাঝে আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশনও করেছেন।

ছেলের এমন অর্জন দেখে বাবা হালিম শাহ ভীষণ খুশি। আলবার্টা থেকে বাংলা ট্রিবিউনকে সাবেক ক্রিকেটার বলেছেন, ‘আমি জাতীয় দলে খেলতে পারিনি। তবে চেয়েছিলাম ছেলে যেন একসময় সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। তবে তাকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। ও নিজের মতো করে বড় হয়েছে। আমরা শুধু দিক নির্দেশনা দিয়েছি। কানাডায় এসে ক্রিকেটের চর্চা দেখা যায়নি। তাই ছেলের ফুটবলের প্রতি ঝোঁকটা বেশি ছিল। আমরাও ওকে উৎসাহ দিয়েছি। এখন তো ও জাতীয় দলে ডাক পেয়েছে। আসলে আমার ও পরিবারের জন্য বড় খুশির দিন আজ।’

কাজেম জানেন তাকে কী করতে হবে। বাবা ক্রিকেটার হওয়ায় পরিবারে আগে থেকে ক্রীড়াসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি। বাবার লাল-সবুজ জার্সি পরার স্বপ্ন পূরণ না হলেও কাজেম নিজেই তা করে আক্ষেপ মেটাতে চাইছেন, ‘জাতীয় দলে জায়গা পাওয়াটা অনেক বড় কিছু। যারা সবচেয়ে ভালো খেলে তারাই এখানে জায়গা পায়। আমার মূল লক্ষ্যই এটা, জাতীয় দলে খেলা। জাতীয় দলে খেলার জন্য আমি বাংলাদেশে এসেছি। বাবা জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলতে পারেনি, কিন্তু আমি খেলতে চাই। তবে এখনও অনেক কিছু প্রমাণের বাকি আছে। অনুশীলনে বেশি বেশি গোল করতে হবে, নিজের সক্ষমতা দেখাতে হবে, যাতে সবার নজর কাড়তে পারি।’

বাবার মতো নিজেকেও চেনাতে চান কাজেম। ঘরোয়া ফুটবলের পাশাপাশি জাতীয় দলে থিতু হতে হবে তাহলে। কাজেমও জানেন পরিশ্রমের কোনও বিকল্প নেই। সেই শৃঙ্খলাও মেনে চলতে হবে।

কাজেম তাই বলেছেন, ‘আসলে  ভালো করার শেষ নেই। চেষ্টা করে যাচ্ছি ভালো করার জন্য। বাবা ক্রিকেটার ছিলেন বলে অনেকেই তাকে চেনেন, এটা আমাকে ভালো অনুভূতি দেয়। আমাকেও যেন সবাই চেনে সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। লাল-সবুজ জার্সি পরতে হলে আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। নিজেকে নতুন করে গড়তে হবে। আমি সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

বাবার স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে কাজেম। স্বপ্ন সত্যি হলে হালিম শাহের পরিবারে ঈদের খুশি!