রেফারির সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলেই হলো, তেড়েফুঁড়ে তার দিকে ছুটে যান ফুটবলাররা। একসঙ্গে অনেকে ঘিরে ধরেন ম্যাচ অফিসিয়ালকে, তর্কাতর্কি তো আছেই। রেফারিও পড়ে যান বিপাকে। আসন্ন ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে রেফারিদের জন্য স্বস্তি মিলছে। ম্যাচ চলাকালে কেবল অধিনায়কেরা রেফারির সঙ্গে কথা বলার ও কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করার অনুমতি পাবেন। উয়েফার রেফারিংয়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রবার্তো রোজেত্তি এই কথা বলেছেন।
অন্য কোনও খেলোয়াড় যদি রেফারির প্রতি অসম্মান কিংবা দ্বিমত পোষণের ইঙ্গিত দেয়, তাহলে তাকে হলুদ কার্ড দেখানো হবে। মঙ্গলবার এক খোলা চিঠিতে রোজেত্তি বলেছেন, ‘আধুনিক খেলায় রেফারি হওয়া খুব কঠিন। মাঝমাঠের অফিসিয়াল প্রতি ম্যাচে কঠিন ও মাঝেমধ্যে বিতর্কিত পরিস্থিতিতে বিশাল চাপের অধীনে ২০০ থেকে ২৫০টি সিদ্ধান্ত নেয়, মানে প্রতি ২২ সেকেন্ডে একটি করে। আর সেগুলোর প্রতিটি ভক্ত ও বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে ভিন্ন রকম হয়ে ধরা দেয়।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘তারা (রেফারি) ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির কাছ থেকে অনেক তথ্য পায় এবং আমরা খেলোয়াড় ও কোচদের সঙ্গে কথা বলে এসবের বিস্তারিত জানাতে প্রস্তুত আছি, যাতে তারা বুঝতে পারে কীভাবে সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয়েছে।’
রোজেত্তি জানান, কোচ ও খেলোয়াড়রা তাদের নতুন এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি যোগ করেন, ‘আপনাকে ঘিরে ধরা ২২ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেওয়া একজন রেফারির জন্য অসম্ভব। এটা যোগাযোগে ব্যঘাত ঘটায়, যাতে করে এই সুন্দর খেলাটা দ্রুত খুবই কদর্য রূপ নেয়।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা সব দলকে নিশ্চিত করতে চাই, রেফারির সঙ্গে খেলোয়াড় হিসেবে কথা বলতে পারবেন শুধু অধিনায়ক। আমরা চাই প্রতি দল থেকে শুধু অধিনায়করা সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার জন্য রেফারির কাছে আসতে পারবে।’
অধিনায়ক যদি গোলকিপার হন, তাহলে? রোজেত্তি জানান, রেফারির সঙ্গে কথা বলার জন্য একজন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে মনোনীত করা হবে।
আগামী ১৪ জুন থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত জার্মানিতে হবে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ।