২০২২ সালের শেষ দিকের কথা। হঠাৎ মোসাম্মত সুলতানার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। ‘পারফরম্যান্সের কারণে’ তখন হঠাৎ করেই বাফুফের আবাসিক ক্যাম্প ছাড়তে হয়েছিল তাকে। ক্যাম্প ছাড়া মানে ফুটবল ক্যারিয়ারের অনেকটাই ইতি! কেননা, এখনও নারী ফুটবলারদের বাফুফের বাইরে আবাসিক কোনও অনুশীলনের সুযোগ নেই।
কষ্ট নিয়ে প্রায় দুই বছর আগে তল্পিতল্পা গুটিয়ে রংপুরের পালিচড়ায় নিজের গ্রামে ফিরে যান তিনি। তারপরও হতোদ্যম হননি সুলতানা। ব্যক্তিগতভাবে বাসার পাশে মাঠে অনুশীলন চালিয়ে গেছেন। দৃঢ় মনোবল আর কঠোর পরিশ্রমের কারণে ভাগ্যদেবীও তাকে ফেরায়নি। নতুন দিশা দেখিয়েছে। এবার নারী লিগে তো সেনাবাহিনী দলের হয়ে খেলে সাবিনা খাতুন, সানজিদা আক্তার, কৃষ্ণা রানীদের মতো তারকা খেলোয়াড়দের ছাড়িয়ে সেরা হয়েছেন তিনি।
সেনাবাহিনী লিগের শুরুতে চমক দেখালেও শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন কিংবা রানার্সআপ হতে পারেনি। অভিষেক আসরেই তৃতীয় স্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দিচ্ছে সুলতানার পারফরম্যান্স। কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের দর্শকরা তার মতো খেলোয়াড়ের লড়াকু মেজাজে নতুন আবির্ভাব দেখেছে। ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলে তিনি ১১ গোল করেছেন। শুধু ফরোয়ার্ড কেন, দলের প্রয়োজনে মিডফিল্ডার হয়েও মাঠে নামতে দেখা গেছে ১৯ বছর বয়সী ফুটবলারকে।
সুলতানার আগমন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা প্রাথমিক ফুটবল থেকে। ২০১৬ সালে বাফুফের আবাসিক ক্যাম্পে সুযোগ পেয়ে যান তিনি। অনূর্ধ্ব-১৬ ও ১৯ দলে খেলেছেন। তবে জাতীয় দলে খেলা হয়নি। তার আগেই বিদায় নিতে হয়েছে ক্যাম্প থেকে। মাঝের দুই বছর তাকে বেশ পরিশ্রম করতে হয়েছে। লড়াই করতে হয়েছে অনেক প্রতিকূলতার সঙ্গেও। সুলতানা বলছিলেন, ‘ক্যাম্প থেকে ছিটকে পড়ে আমাকে রংপুর চলে যেতে হয়েছিল। সেখানে তো অনুশীলন কিংবা খেলার সুযোগ কম। তারপরও মাঠে গিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনুশীলন করেছি। কষ্ট হয়েছে অনেক। সমস্যা হয়েছে। তারপরও থামিনি। মাঝে স্থানীয় কোচ শামীম ভাইয়ের অধীনে ভারতে খেলেছিলাম। জানতাম আমাকে ফিরতে হবে এবং একদিন ফিরবোই। সেই পণ থেকেই ডাক পেয়ে সেনাবাহিনীর হয়ে ভালো খেলে সেরা হয়েছি।’
সেনাবাহিনী দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনও সুলতানার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ‘সুলতানা প্রতিটি ম্যাচে ধারাবাহিক পারফর্ম করে গেছে। কোনও ম্যাচেই খারাপ করেনি। এছাড়া ও সব পজিশনে খেলতে পারে। সেই কারণে লিগ সেরা হয়েছে। আমার মনে হয় লিগে এবার যা পারফরম্যান্স, তাতে জাতীয় দলে ডাক পেতেই পারে। শুধু সুলতানা নয়, আমার দলের ৭-৮ জন ডাক পাওয়ার মতো।’